
শেষ আপডেট: 9 November 2023 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করেছে এথিক্স কমিটি। তার পর থেকেই দিল্লিতে নতুন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে লোকপাল নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্রের মতে, সেই তদন্তও এবার জোরদার গতিতেই এগোতে পারে। মহুয়াকে কিছুদিনের মধ্যে হেফাজতে নেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে রাজধানীর ক্ষমতার পরিসরে।
দিল্লিতে যখন এমনই গুঞ্জন তখন বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই ধরনের জালিয়াত সাংসদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া সময়ের অপেক্ষা ছিল। বাংলার মানুষ চান, তাঁকে জেলে ঢোকানো হোক। আমরাও চাই এই জালিয়াত সাংসদ জেলে যান।”
মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে লোকপাল ও এথিক্স কমিটিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। নিশিকান্তর সঙ্গে মহুয়ার ব্যক্তিগত বিরোধও ছিল। কারণ, মহুয়া অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছিলেন যে নিশিকান্তর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ভুয়ো।
নিশিকান্তর ওই অভিযোগের প্রেক্ষাপটেই লোকপাল সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আবার এথিক্স কমিটিও তাদের সুপারিশে বলেছে যে মহুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর থেকে টাকা ও দামি উপহার নেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে তার প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত করুক সরকার।
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করিয়েই ক্ষান্ত থাকতে চাইছে না বিজেপি। তাদের মূল উদ্দেশ্য আরও বড়। মহুয়াকে ফৌজদারি মামলায় এমনভাবে জড়ানো যাতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মহুয়া ভোটে দাঁড়াতে না পারেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই এক্ষেত্রে মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর কথায়, "মহুয়ার বিরুদ্ধে যেরকম পরিকল্পিত ভাবে পদক্ষেপ করা হল তা সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। গোড়া থেকেই বিজেপির অভিপ্রায় ছিল মহুয়াকে সংসদ থেকে তাড়ানো। ওদের আরও বড় পরিকল্পনা থাকলেও অবাক হব না।"