
শেষ আপডেট: 9 November 2023 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এথিক্স কমিটি। কিন্তু এথিক্স কমিটির প্রক্রিয়াগত দিক নিয়ে একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী। তবে অধীর-অভিষেকের যুক্তি খণ্ডন করতে চাইছেন এথিক্স কমিটিতে বিজেপি সদস্যরা। এই তর্ক সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অধীর ও অভিষেকের মূল বক্তব্য একই। তাঁদের মতে, সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যাঁরা সংসদে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদেরই হেনস্থা করা হচ্ছে। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে গোড়া থেকে এথিক্স কমিটির অভিপ্রায়ই ছিল মহুয়াকে তাড়ানো।
অধীর চৌধুরী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বক্তব্য আরও জোরদার। তাঁদের মতে, এথিক্স কমিটি একদিকে মহুয়াকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে, অন্যদিকে বলেছে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে। অর্থাৎ তদন্ত না হতেই শাস্তির সুপারিশ করে দিল এথিক্স কমিটি।
কিন্তু এথিক্স কমিটিতে বিজেপির সদস্যদের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্র শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির থেকে কত টাকা নিয়েছিলেন, বা আদৌ টাকা নিয়েছিলেন কিনা তা তদন্ত করে দেখা এথিক্স কমিটির কাজ নয়। তা লোকপাল, সিবিআই করবে। এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রর সংসদীয় আচরণ খতিয়ে দেখেছে। যা অসদাচরণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোন যুক্তিকে এথিক্স কমিটির মনে হচ্ছে, মহুয়া অসদাচরণ করেছে?
খসড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক, মহুয়া মৈত্রর হয়ে লোকসভার ওয়েবসাইটে প্রশ্ন পোস্ট করেছেন শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানি। তিনি ভারতীয় হলেও দুবাইয়ে থাকেন। সেখানে থাকার ব্যাপারে তাঁর কাছে সেদেশের সরকারি ছাড়পত্র রয়েছে। দর্শন হীরানন্দানি দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি মহুয়ার হয়ে লোকসভার ওয়েবসাইটে প্রশ্ন পোস্ট করেছিলেন। দর্শন এও স্বীকার করেছেন, মহুয়াকে দামি উপহার, তাঁর সরকারি বাংলো মেরামতের খরচ ও বিদেশে বেড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
দুই, দর্শন হীরানন্দানি ভারতীয় হলেও তাঁর পরিবারে এমনও অনেকে রয়েছেন যাঁরা বিদেশি পাসপোর্ট হোল্ডার। সুতরাং লোকসভার ওয়েবসাইটের লগ ইন ক্রেডেনশিয়াল বিদেশি কারও হাতে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
তিন, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে লোকসভার ওয়েবসাইটে মহুয়ার ক্রেডেনশিয়াল দিয়ে ৪৭ বার লগ ইন করা হয়েছে। এর মধ্যে চার বার লগ ইন করা হয়েছে দুবাই থেকে। এই সময়ের মধ্যে চার দিন দুবাইতে ছিলেন মহুয়া। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, মহুয়া যখন দুবাইতে ছিলেন সেই সময়ে লগ ইন করা হয়নি। অন্য কেউ তাঁর হয়ে করেছেন। এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।
চার, এথিক্স কমিটিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বহু সময়ে কোনও বিল সংসদে পেশ করার আগে লোকসভার ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়। যাতে সাংসদরা তা দেখতে পারেন। লোকসভার লগ ইন বাইরের লোকের হাতে চলে গেলে সেই বিলের বিষয় ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ঠিক এভাবেই জম্মু-কাশ্মীরের ডিলিমিটেশন বিল ফাঁস হয়েছিল।
তবে এর পরেও অধীর চৌধুরী বলেছেন, এথিক্স কমিটির এই সব যুক্তি খুব একটা জোরদার নয়। মহুয়া মৈত্রর হয়ে কে প্রশ্ন করেছিলেন তা নিয়ে ওরা ইচ্ছা করে তোলপাড় ফেলতে চাইছে। মহুয়া যে প্রশ্ন করেছিলেন আদানি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তা নিয়ে টুঁ শব্দ করছেন না। অর্থাৎ কনটেক্সটটা বড় করে দেখানো হচ্ছে, টেক্সট নিয়ে কথা হচ্ছে না। যেভাবে মহুয়াকে লোকসভা থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।