
শেষ আপডেট: 9 November 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভার এথিক্স কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার আগেই বুধবার সন্ধেয় এথিক্স কমিটির রিপোর্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সংসদীয় বিধিভঙ্গের অভিযোগ করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে লোকসভার এথিক্স কমিটি মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করার প্রস্তাব দিয়েছে খসড়া রিপোর্টে। ৫০০ পৃষ্ঠার সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তোলার যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তও করুক কেন্দ্রের সরকার।
এই রিপোর্ট ফাঁস হতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে মহুয়া বলেছেন, এর অর্থ হল লোকসভার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। এ ব্যাপারে আগেও চিঠি দিয়েছিলাম। ফের অভিযোগ জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে আপনার নিষ্ক্রিয়তা দুর্ভাগ্যজনক।
মহুয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদানি গোষ্ঠীর মালিকানায় থাকা একটি নিউজ চ্যানেলে খসড়া রিপোর্ট ফাঁস হয়েছে। এতে লোকসভার কার্য পদ্ধতির ২৭৫(২) নম্বর ধারাকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওই সংস্থার বিরুদ্ধেই আর্থিক জালিয়াতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছিলাম সংসদে।”
সংসদের কমিটির খসড়া রিপোর্ট আগে ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। নিয়ম হল, কমিটির বৈঠকের আগে খসড়া রিপোর্ট সমস্ত সদস্যের কাছে আগাম পাঠাতে হবে। এথিক্স কমিটিতে মোট ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। ব়ৃহস্পতিবার বৈঠকের আগে বুধবার খসড়া রিপোর্ট সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। তার পরই ফাঁস হয় রিপোর্ট।
সংসদের রিপোর্ট এভাবে ফাঁস হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। শুধু এথিক্স কমিটি কেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাও সদস্যরা বাইরে জানাতে পারেন না। কিন্তু সাংবাদিকদেরও চেষ্টা থাকে সে সব অনুসন্ধান করে বের করার। তাই আকছার স্থায়ী কমিটি বা কোনও সংসদীয় কমিটির আলোচনা ও রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে বিক্ষিপ্ত ভাবে আগেই প্রকাশ হয়ে যায়।
তবে যেহেতু এই সব রিপোর্ট নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম কাগজেকলমে রয়েছে, তাই মহুয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন নয় বলেই অনেকের মত। এ ব্যাপারে স্পিকার আদৌ কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা সেটাই দেখার।