
শেষ আপডেট: 9 November 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর থেকে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস কোনও মন্তব্যই করেনি। বাংলা থেকে শুধু একা মহুয়ার পক্ষ নিয়ে জোরালো সওয়াল করেছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
অধীরবাবুর দল কংগ্রেস বাংলায় তৃণমূল-বিরোধী। জাতীয় স্তরে কংগ্রেস ও তৃণমূল যতই জোটে থাকুক বাংলায় তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। তাই রাজ্য রাজনীতিতে অপার কৌতূহল, মহুয়ার পাশে কেন অধীর? ঠিক কোন যুক্তিতে বা সমীকরণে এতটা খোলাখুলি তৃণমূলের এক সাংসদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি!
বৃহস্পতিবার এ প্রশ্নের জবাবে দ্য ওয়াল-কে অধীর চৌধুরী বলেন, “এখানে ব্যক্তি মহুয়া মৈত্র প্রাসঙ্গিক নয়। কৃষ্ণনগরের সাংসদ সংসদে আমার সহকর্মী। বিরোধী দলের একজন সাংসদ তিনি। কেন আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছি তাঁর সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে সংসদে বিজেপির প্রবণতা হল, যিনিই সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নায্য প্রশ্ন তুলছেন, তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁকে লোকসভা বা রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হচ্ছে কিংবা একেবারেই বহিষ্কার করার চেষ্টা হচ্ছে।
অধীর বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও অপশব্দ ব্যবহার না করলেও আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ করা হয়েছে। এই প্রবণতা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর।”
মহুয়া মৈত্রর পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে লোকসভায় কংগ্রেস নেতার আরও যুক্তি রয়েছে। তাঁর কথায়, “মহুয়া মৈত্র কারও কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন কিনা সেই বিতর্কে ঢুকছি না। তবে দেখতে পাচ্ছি সরকার এবং কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপির টোন অ্যান্ড টেনিওর হল মহুয়াকে তাড়ানোর। শুরু থেকেই ওদের অভিপ্রায় হল মহুয়াকে লোকসভা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার। তাঁকে শুধরোনোর কোনও চেষ্টা বা অভিপ্রায় নেই। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে বিরোধীদের এক এক করে খতম করার জন্য এটা বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল মাত্র।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, “একটা মৌলিক প্রশ্নও এখানে উঠছে। মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা এথিক্স কমিটির বিবেচনার জন্য যাবে কেন? এথিক্স কমিটি হল সংসদের একটা অ্যাডহক কমিটি। এটা সংসদের প্রিভিলেজ কমিটিতে যাওয়া উচিত ছিল। আরও মজার বিষয় হল, এথিক্স কমিটিতে কার্যত কোনও শুনানিই হল না। বরং মিডিয়া ট্রায়াল হল। আর সেই কথাগুলোই হুবহু উঠে এল এথিক্স কমিটিতে। কোনও তদন্তই তো হয়নি”।
মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত ছাড়াই যে শাস্তির বিধান দেওয়া হচ্ছে, সেই কথাটি বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তরফে প্রথমবার বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অধীর চৌধুরীও ঠিক সেই কথাটাই দ্য ওয়ালকে বলেছেন। তাঁর কথায়,“মহুয়া যে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তার কোনও প্রমাণ নেই। তা এখনও প্রমাণ করা যায়নি। এথিক্স কমিটির খসড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকার যেন এ ব্যাপারে তদন্ত করে দেখে। প্রশ্ন হল, তদন্তই যদি না হয়ে থাকে তাহলে কীসের ভিত্তিতে এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করতে বলছে? তার মানে হল, মহুয়াকে পাঁচ বছরের জন্য সংসদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে, এটা ঠিক করে নিয়েই সুপারিশ লিখতে বসেছে কমিটি।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির কথায়, “মহুয়া কংগ্রেসের সদস্য নয় বলে তাঁর পাশে দাঁড়াব না, এমন সংকীর্ণ রাজনীতি কখনও করিনি বা করব না। মনে রাখতে হবে সংসদীয় গণতন্ত্রের উপর বিপদের যে মেঘ ঘনিয়েছে, যেভাবে ভারতের সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভোঁতা করে দেওয়া হচ্ছে, তা সুদুরপ্রসারী ক্ষত তৈরি করছে। এই ক্ষত নিরাময়ের জন্য সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নিয়মের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। না হলে এই ক্ষত এড়িয়ে থাকতে পারবে না কেউই”।