সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার (Rain Forecast) কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর (Weather Office)।

রাজ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস
শেষ আপডেট: 9 March 2026 10:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবারের হালকা বৃষ্টির আবহ সোমবারও বজায় থাকতে পারে। সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতা ও রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার (Rain Forecast) কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর (Weather Office)। আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস (Weather Forecast in Bengal) অনুযায়ী, সোমবার দিনের শুরুতে কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি (Rain in Bengal) হতে পারে।
শুধু কলকাতাই (Kolkata Weather Today) নয়, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও সোমবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম (Birbhum), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), নদিয়া (Nadia), পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) এবং পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই জেলাগুলির কিছু এলাকায় দমকা ঝড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে স্থানীয় মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের (North Bengal Weather) আবহাওয়াতেও খুব একটা পার্থক্য থাকবে না। পাহাড়ি এলাকাতেও সোমবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং (Darjeeling) এবং কালিম্পং (Kalimpong) জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। পাহাড়ের পাশাপাশি তরাই ও ডুয়ার্স এলাকার কয়েকটি জেলাতেও মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) এবং কোচবিহার (Cooch Behar)। এই সব জায়গায় দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
উত্তরবঙ্গের সমতল জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur), দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) এবং মালদহ (Malda) জেলায় বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই আবহাওয়ার পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। বাংলা ও ওড়িশার সীমানা অঞ্চলের আকাশে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চলও তৈরি হয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ফলে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে ঢুকতে শুরু করেছে।
এর পাশাপাশি ওড়িশা থেকে একটি অক্ষরেখা ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশ হয়ে উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই অক্ষরেখার প্রভাবেও বায়ুমণ্ডলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ঠিক সেই সময়েই দেশের উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে একটি দুর্বল পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও প্রবেশ করেছে।
আবহবিদরা জানাচ্ছেন, এই সব কটি আবহাওয়াগত উপাদান একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ায় আকাশে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় মেঘের ঘনত্ব আরও বাড়ে এবং তার ফলেই বৃষ্টি শুরু হয়। এছাড়াও ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উপরে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে যে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বইছে, অর্থাৎ ‘জেট স্ট্রিম’, সেটি কিছুটা নীচে নেমে এসেছে। এর ফলে বজ্রগর্ভ মেঘ দ্রুত বাংলার দিকে সরে আসতে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি চলতে পারে। ফলে আকাশ মেঘলা থাকা, বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।