দফতরের বাইরেও ততক্ষণে শুরু হয়েছে বিএলও-দের ধর্না। সারারাতের পর সকাল থেকেও থমথমে পরিবেশ সেখানে। সিইও দফতরের ভিতরে ছিলেন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির ৭ জন সদস্য।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর (SIR) কাজের অতিরিক্ত চাপের অভিযোগ নিয়ে সিইও অফিসের (CEO Office) মধ্যেই অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছিল বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি (BLO)। সোমবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া সেই ধর্না অবশেষে উঠেছে। কারণ অবশেষে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)। এই সাক্ষাতের পরই সিইও অফিস থেকে বেরিয়ে আসেন বিক্ষোভরত বিএলও-রা। তবে অফিসের বাইরে যে অবস্থান চলছিল, সেটি এখনও বহাল।
সোমবার এসআইআরের (SIR) কাজের ইস্যুতে মিছিল করেছিলেন বিএলও-রা। সেই মিছিল সিইও দফতরে আসার পর দাবি করা হয় যে তারা সিইও মনোজ আগরওয়ালের (Manoj Agarwal) সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু দফতরের এক কর্মী বলেন, তাঁদের সঙ্গে সিইও-র (CEO) দেখা হবে না! এরপরই শিক্ষকদের বের করে দিতে বলেন তিনি। যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যরা। সেখানেই শুরু হয় অবস্থান-বিক্ষোভ।
সিইও দফতরের বাইরেও ততক্ষণে শুরু হয়েছে বিএলও-দের ধর্না (BLO Protest)। সারারাতের পর সকাল থেকেও থমথমে পরিবেশ সেখানে। সিইও দফতরের ভিতরে ছিলেন বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির ৭ জন সদস্য। তারা মঙ্গলবার সন্ধেতে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাইরের বিক্ষোভ এখনও বহাল।
এদিন সিইও তিনজন বিএলও এবং বিএলও অধিকাররক্ষা কমিটির এক সদস্য মইদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা তাঁকে ডেপুটেশন জমা দিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। বিএলও-দের দাবি, সিইও কথা দিয়েছেন যে, বিএলও-দের কোনও রকম শো-কজ করা হবে না, চাপও দেওয়া হবে না। তারপরই অফিসের ভিতরের অবস্থান তুলে নেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, বিএলও-দের প্রতিবাদ ঘিরে সোমবার মধ্যরাতে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) সহ আরও অনেকে সেখানে যান। তাঁরা গেলে তৃণমূলপন্থী (TMC) বিএলও-দের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাঁধে। অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের তরফ থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। এসআইআরের কাজের চাপের প্রতিবাদে স্লোগান তোলা হলে পাল্টা বিজেপির তরফে এসআইআরের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয় বলে দাবি। সেই ইস্যুতেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সজল ঘোষ মূলত অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূলের লোকেরা (TMC) সিইও দফতরে এসে বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্যত এসআইআর-এর কাজ বন্ধ করতে চাইছেন। যারা আদতে এসে বিক্ষোভ করছেন তারা কেউ বিএলও নন, তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এই কাজে বিঘ্ন ঘটানো। সেই কারণেই তারা এসে দফতরের সামনে পাল্টা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। যদিও সজল ঘোষের এই অভিযোগ মানতে চাননি বিক্ষোভরত বিএলওরা।
তাদের পাল্টা দাবি, রাজ্যে একাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে যার জন্য দায়ী এসআইআর। অনেক সাধারণ মানুষ আতঙ্কে এবং বিএলও-রা মারা গেছেন এই কাজের অত্যাধিক চাপের জন্য। তাই তারা সিইও অফিসের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, এদিন সকাল থেকে সমস্ত বিএলও-রা (BLO) ধর্নায় বসেই এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) ডিজিটাইজ করেছেন। কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন ভোটার ছিলেন। মোট ৮০,৬৮১ জন বিএলও নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির প্রায় দেড় লক্ষ বিএলএ বা এজেন্ট কাজ করছেন। ৭ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি ভোটারকে ফর্ম বিলি করা হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি ফর্ম ‘ডিজিটাইজড’ হয়ে গেছে।