অনুমতি ছাড়া কারও মোবাইল নম্বর (Mobile Number) ছড়িয়ে দেওয়া শুধু অবিবেচনার মতো সিদ্ধান্তই নয়, সরাসরি ঝুঁকিরও। আর ঠিক সেই কাজটাই করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

এআই ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুমতি ছাড়া কারও মোবাইল নম্বর (Mobile Number) ছড়িয়ে দেওয়া শুধু অবিবেচনার মতো সিদ্ধান্তই নয়, সরাসরি ঝুঁকিরও। আর ঠিক সেই কাজটাই করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এমনই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মহিলা বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা (BLO)।
ছাব্বিশে বাংলায় বিধানসভা (West Bengal Election) নির্বাচন। তার আগে রাজ্য জুড়ে এসআইআর (SIR) শুরু হয়েছে। যার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) বিলি করছেন বিএলও-রা। যত গন্ডগোল সেই ফর্মেই। ভোটারের নাম, এপিক নম্বরের (Epic Number) বিস্তারিত বিবরণের পাশেই দেখা যাচ্ছে এলাকার বিএলও-র নাম ও ফোন নম্বর। আর সেই নিয়েই চটেছেন সংশ্লিষ্ট মহিলা বিএলও-রা। তাঁদের প্রশ্ন, এরকম না বলে-কয়ে কী করে ফর্মে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর দিয়ে দিল কমিশন?
বিএলও-দের অভিযোগ, এই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের জন্য কম ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে না। দিন নেই রাত নেই, অদরকারে ফোন করা হচ্ছে। বিরক্ত করা হচ্ছে। আজেবাজে কথা বলছেন কেউ কেউ। এক মহিলা বিএলও-র কথায়, "উল্টোপাল্টা ফোন পাচ্ছি। বুঝতেই পারছেন কী ধরনের ফোন! কারও পার্সোনাল নম্বর পাবলিক করা হল কেন? ভোটারদের বাইরের লোকও ফোন করছে, ডিস্টার্ব করছে। কোনও সময়ে শান্তি নেই।"
তাঁদের অভিযোগ, "এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নম্বর না দিয়ে কমিশন চাইলেই আমাদের (বিএলও) সিইউজি কানেকশন দিতে পারত। কিন্তু দেয়নি। তাহলে অন্তত হাবিজাবি ফোন পাওয়ার চিন্তা থাকত না।"
একাংশের মতে, কমিশনের উচিত ছিল এসআইআর কাজের জন্য অস্থায়ী আলাদা মোবাইল নম্বর দেওয়া। কাজ শেষ হলে সেই নম্বর নিষ্ক্রিয় হয়ে যেত। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও টিকত, ঝামেলাও কমত।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন আগেই। অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধ। আজ রাজ্যের যে-কোনও জায়গা থেকে বিএলওদের নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন হল, নির্বাচন কমিশনের বড় পদাধিকারীদের নম্বর কি ওয়েবসাইটে আছে? নেই। তাহলে কেন বিএলওদেরই সামনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?”
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, "ফর্মে এভাবে নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া আসলে প্রমাণ করে কমিশনের কতটা পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। যদি আলাদা একটা নম্বর তৈরি করে দেওয়া যেত, তাহলে এত কথাই উঠত না।"
ক'দিন আগেই খবর হয়েছিল, এই সমস্যায় পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ৮১ হাজার বিএলও। গত ৪ নভেম্বর থেকে দিন–রাত একটানা তাঁদের ব্যক্তিগত নম্বরে আসছে ফোন। ভোটার তালিকার এনুমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে এখন ফর্ম সংগ্রহের ব্যস্ততম পর্ব— সব কিছুতেই ফোনে প্রশ্নের ঝড়।
এই ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর। তারপর প্রকাশ হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার আগে এই উল্টোপাল্টা ফোন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিএলও-রা। অনেকেই বলাবলি করছেন, এরপর এসআইআর পর্ব শেষ হলে হয়তো এত দিনের নম্বরটা আর রাখা যাবে না। তখন আবার নতুন মোবাইল নম্বর নিতে হবে।
এদিকে, অতিরিক্ত কাজের চাপের প্রতিবাদে সোমবার থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরে। বিক্ষোভ দেখান বিএলও-দের (West Bengal SIR) একাংশ। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-পর্বের বুথভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত বুথস্তরের আধিকারিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় পুলিশের (Police)। পরে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বিএলও-দের (BLO)। সেই থেকে শুরু। এরই প্রতিবাদে রাতভর ধর্নায় বসে যান তাঁরা। সেই ধর্নায় বসেই বাকি থাকা কাজ সামলাচ্ছেন বুথ লেভেল অফিসাররা।
বিএলও-দের দাবি ছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় না থাকায় সিইও দেখা করতে অস্বীকার করেন। পরিবর্তে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন অতিরিক্ত সিইও। তাতেও ক্ষোভ মেটেনি বিক্ষোভকারীদের।
যদিও বিজেপি বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। তাদের বক্তব্য, যাঁরা এসব ধর্না করছেন সব শাসকদলের পাঠানো। তৃণমূল এসআইআর-কে ভয় পাচ্ছে বলেই এঁদের দিয়ে আন্দোলন করাচ্ছে।