নীরব মোদী এর আগেও নানা যুক্তি দেখিয়ে ভারতে প্রত্যর্পণ আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁর চোখের গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছেন।

নীরব মোদী
শেষ আপডেট: 15 April 2026 07:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর (Nirav Modi) প্রত্যর্পণ মামলায় ফের নতুন মোড়। এবার ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ECHR) তাঁকে ‘অ্যানোনিমিটি’ (anonymity) বা পরিচয় গোপন রাখার সুরক্ষা দিয়েছে। এর ফলে তাঁর করা আবেদন সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াই এখন গোপন রাখা হবে এবং শুনানি হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে।
ECHR এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেসব মামলায় আবেদনকারীকে 'অ্যানোনিমিটি দেওয়া হয়, সেই মামলার তথ্য প্রকাশ করা হয় না। এমনকি তারা নীরব মোদীর মামলার বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দিতেও অস্বীকার করেছে, কারণ বিষয়টিকে এখন ‘কনফিডেনশিয়াল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, নীরব মোদীর আবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই শুনানি হতে পারে। সেই শুনানিতে ভারতের তদন্ত সংস্থা সিবিআই-ও নিজেদের যুক্তি পেশ করার সুযোগ পাবে।
নীরব মোদী (Nirav Modi) বর্তমানে ইউরোপীয় আদালতের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যর্পণ (extradition to India) আটকানোর শেষ চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি ব্রিটেনের সব আইনি পথে গিয়ে মামলা নিজের দিকে টানার চেষ্টা করে ফেলেছেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্রিটেনের হাইকোর্ট তাঁর পুনরায় শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণে কোনও বাধা নেই এবং তাঁর উপর নির্যাতনের ঝুঁকির দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
নীরব মোদী এর আগেও নানা যুক্তি দেখিয়ে ভারতে প্রত্যর্পণ আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁর চোখের গুরুতর সমস্যা রয়েছে এবং তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছেন। পাশাপাশি তিনি সঞ্জয় ভান্ডারির উদাহরণ টেনে বলেন, যেমন ভারতীয় তদন্তকারীদের হাতে নির্যাতনের আশঙ্কায় ভান্ডারির প্রত্যর্পণ বাতিল হয়েছিল, তেমনই তাঁর ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে লন্ডন হাইকোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
সিবিআইয়ের তরফে ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করা হয়েছে, নীরব মোদীকে দেশে আনা হলে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের ১২ নম্বর ব্যারাকে রাখা হবে এবং সেখানে তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সমস্ত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ভারতে ফেরানো মাত্রই তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে এবং সেখান থেকেই শুরু হবে পিএনবি কেলেঙ্কারির অর্থ পাচার ও প্রতারণা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া।
২০১৮ সালে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকার জালিয়াতি করেন নীরব মোদী, এমন অভিযোগ ওঠার পরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ঋণ প্রতারণার মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ইডি তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারপর থেকেই তিনি ওয়েস্টমিনস্টার এলাকার একটি জেলে বন্দি রয়েছেন।