যুদ্ধ বিরতির দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও আমেরিকার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে আশাবাদী রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
.jpeg.webp)
আমেরিকার এই পদক্ষেপে বিপদ বাড়ছে!
শেষ আপডেট: 15 April 2026 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দিয়ে তেলবাহী জাহাজ নয়, ইরানের (Iran) সমুদ্রপথে সব ধরনের পণ্যবাহী জাহাজে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
সেন্টকমের ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতীয় সময় সোমবার সাড়ে সাতটায় অবরোধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে একটি জাহাজও চলাচল করতে পারেনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন ইরানের ওপর যে অবরোধ বলবৎ হয়েছে তাতে তিনি মনে করেন যুদ্ধের অবসান আসন্ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে বলতে চেয়েছেন এই অবরোধ মোকাবিলা ইরানের পক্ষে সম্ভব হবে না। তারা নতজানু হতে বাধ্য হবে। যদিও আগামী সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকের জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। যুদ্ধ বিরতির দ্বিতীয় দফার বৈঠকেও আমেরিকার নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে আশাবাদী রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, পরবর্তী বৈঠকেই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত রূপ নেবে।
যদিও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য আরও একটি কারণ উল্লেখ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালীতে বিপুল সংখ্যায় ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে ইরান। গত সপ্তাহে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণার পর বিষয়টি সামনে আসে। আরও জানা যায়, জলের নীচে ল্যান্ডমাইন থাকার কথা স্বীকার করলেও ইরান জানিয়ে দেয় যুদ্ধ পুরোপুরি না থামা পর্যন্ত সেগুলি সরানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার সেটিও একটি কারণ।
সমাজমাধ্যমে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যান্ড কুপার বলেছেন, ‘ইরানের অর্থনীতির ৯০ ভাগ সমুদ্র বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অবরোধ শুরুর ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সমুদ্রপথে ইরানের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী।
প্রাথমিক ঘোষণায় আমেরিকা জানিয়েছিল, তারা ইরানের উপকূল থেকে কোনও জাহাজ বেরনো কিংবা প্রবেশ বন্ধ করে দেবে। এখনও মার্কিন বাহিনী দাবি করছে, ইরানের অভ্যন্তরেও তারা অবরোধ কার্যকর করতে পেরেছে। যদিও মার্কিন দাবি নিয়ে তেহরান এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সেন্টকম বিবৃতিতে বলেছে, তারা সব দেশের উপর সমানভাবে অবরোধ কার্যকর করেছে। কোন দেশের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ নেই।
কীভাবে অবরোধ কার্যকর করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে ইরানের উপকূলে তারা মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে। প্রতিটি ডেস্ট্রয়ারে ৩০০ দক্ষ মার্কিন নৌ-কমান্ডো আছে যারা মুহূর্তের মধ্যে অভিযান চালিয়ে যে কোন জাহাজ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে ভারত সহ সমগ্র বিশ্ব নতুন করে বিপদে পড়েছে। অবরোধ ছাড়াও ইরানকে স্বল্প মেয়াদে তেল বিক্রির যে অনুমতি এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা। ফলে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের ইরান থেকে তেল আমদানির যে সুযোগ বহাল ছিল তারও অবসান হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।