Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
প্রথম পর্বে দেখা হবে না রাম-রাবণের! ‘রামায়ণ’ নিয়ে ভক্তদের মন ভেঙে দিলেন ‘টক্সিক’ যশনববর্ষ উদযাপনের মাঝেও মনখারাপ! দিনের শুরুটা কীভাবে কাটালেন ঋতুপর্ণা?গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

হাইকোর্টের জামিনের আদেশ কার্যকর করেছে ময়মনসিংহ নিম্ন আদালত। ফলে প্রধান আসামি এখন কারামুক্ত। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের এই রায় নিয়ে তুমুল জল্পনা সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। সমাজমাধ্যমে ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতি

শেষ আপডেট: 15 April 2026 13:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়মনসিংহের ভালুকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও মোছেনি। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এরই মধ্যে সেই হত্যাকাণ্ড অর্থাৎ তরুণ দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে আধমরা করার পর গাছে ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি জামিন পেয়ে গেল। বাংলাদেশ হাইকোর্ট মহম্মদ মাসুম খালাসী নামে ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিতকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে।

হাইকোর্টের জামিনের আদেশ কার্যকর করেছে ময়মনসিংহ নিম্ন আদালত। ফলে প্রধান আসামি এখন কারামুক্ত। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের এই রায় নিয়ে তুমুল জল্পনা সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে। সমাজমাধ্যমে ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির সমালোচনায় সরব হয়েছেন। 

 

জনতার আদালতের কাঠগড়ায় অভিযুক্ত দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি কাজী মহম্মদ ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়ের। কোন আইনি যুক্তিতে তাঁরা এমন নৃশংস হত্যাকান্ডে প্রধান অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেন তা নিয়ে আইনজ্ঞদের একাংশও প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে আর্জি জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায় পর্যালোচনা করুক শীর্ষ আদালত।

নিহত দীপুচন্দ্র দাসের ভাই রবি দাস সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করা হোক। তাঁর বক্তব্য, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে মামলা চালানো সম্ভব নয়। পুলিশ ও বিচার বিভাগের একাংশের ধারণা, প্রধান অভিযুক্তের জামিন হওয়ায় বাকি আসামিদেরও কারামুক্তি আসন্ন।

গত বছর ডিসেম্বরের গোড়ায় ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে নামে স্থানীয় তরুণকে গণহত্যা করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে পরে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে। নিহত তরুন স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক ছিলেন। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের খেপিয়ে তোলা হয়েছিল। পরের স্থানীয় মানুষও তার উপর নির্যাতনে সামিল হয়। বাংলাদেশ তখন মহম্মদ ইউনূস এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। ওই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলে মেনে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। অথচ তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর হাইকোর্ট যেভাবে প্রধান অভিযুক্তের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করলো তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে পুলিশের তরফে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেননি।
ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তখন বাংলাদেশের বাইরেও দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ওই ঘটনায় বাংলাদেশের ফৌজদারী দন্ডবিধির ১৪৭/১৪৯/৩০২/২০১/২৯৭/৩৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগ। এইসব ধারার মধ্যে  হত্যা ও লাশ গুমের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ মোট ২৬ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত মহম্মদ মাসুম খালাসী সহ ১২ জন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

মূল অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যাওয়ায় বিস্মিত ও বিরক্ত পুলিশও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পুলিশের এক পদস্থ কর্তা আদালতের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। পুলিশ বিস্মিত সরকারি আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও। গত ছয় এপ্রিল হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি হলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে নানা মহলের অভিমত। জামিন পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয় ময়মনসিংহ নিম্ন আদালতে হাইকোর্টের রায়ের কপি পৌঁছালে। যা থেকে অনেকের ধারণা মূল অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার বিষয়টি কোনও প্রভাবশালী মহল থেকে গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছিল।


```