বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বাণীতে তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। নতুন বছরের আগমন পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

তারেক রহমান।
শেষ আপডেট: 13 April 2026 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (Bangladesh Pahela Baishakh) বঙ্গাব্দের সূচনা হবে। গত কয়েকদিন ধরেই সে দেশে বাংলা নববর্ষ ( Pahela Baishakh) উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে চলতে জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের তরফে আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিগত বহু বছরের মতো আগামীকালও ঢাকাসহ গোটা দেশে নববর্ষের শোভাযাত্রা বের হবে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে নববর্ষ উদযাপন উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত বর্ষবরণের শোভাযাত্রার এবার নামকরণ করা হয়েছে বৈশাখী শোভাযাত্রা। গত তিন দশকের তিনবার এই শোভাযাত্রার নাম বদল হয়েছে। নয় দশকের গোড়ায় শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে। গত বছর মোঃ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে আনন্দ শোভাযাত্রা রাখে। এবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দ শোভাযাত্রা নাম বহাল রেখেছিল। তবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী মঙ্গল এবং আনন্দ কোন নামেই সায় দেননি। তিনি নাম রেখেছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বাণীতে তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। নতুন বছরের আগমন পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষক তার ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মধ্য দিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।
তার কথায়, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে। প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্র ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি সভাপতি তারেক রহমান আরও বলেছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি।