ওয়াশিংটন ও তেহরানের (Tehran) মধ্যে কয়েক দশকের অবিশ্বাস সহজে দূর হবে না, তবে আলোচনার বর্তমান অবস্থাকে তিনি পাকাপাকিভাবে যুদ্ধ থামানোর পথে 'অনুকূল' বলে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প-জে ডি ভ্যান্স (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 15 April 2026 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম শান্তি-বৈঠক (US Iran Peace talk) ব্যর্থ হতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ (Hormuz Pronali) ঘিরে জ্বালানি সঙ্কটের (Fuel crisis) আশঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে। এর মধ্যেই আবারও দু'দেশের কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন বৈঠক ও রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আশার পাশাপাশি সতর্কতাও দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) সম্প্রতি জর্জিয়ার এথেন্সে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া বৈঠকের পর ইরানি প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি স্বীকার করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের (Tehran) মধ্যে কয়েক দশকের অবিশ্বাস সহজে দূর হবে না, তবে আলোচনার বর্তমান অবস্থাকে তিনি পাকাপাকিভাবে যুদ্ধ থামানোর পথে 'অনুকূল' বলে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য একটি বড় ও বিস্তৃত চুক্তি করা, যা শুধু পারমাণবিক ইস্যুই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করবে।
এই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, “ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে”। যদিও পরে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা আসে যে তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন সংঘাত শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করে এবং ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসে, এই শর্তগুলো নিয়েই আলোচনা এগোচ্ছে বলে ভ্যান্স জানান। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে আরও বৈঠক হবে এবং তিনি নিজেই এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবেন।
প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ভবিষ্যতের আলোচনায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত এবং ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা অংশ নিতে পারেন, যারা আগে থেকেই এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত আছেন।
একই অনুষ্ঠানে ভ্যান্স ধর্মীয় সমালোচনা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতাদের মতামতকে তিনি সম্মান করেন, যদিও সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি পোপের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইতিহাসে কিছু যুদ্ধকে নৈতিকভাবে সঠিক হিসেবে দেখা হয়েছে বলেও যুক্তি দেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য চলাকালীন এক শ্রোতা প্রতিবাদ জানালে তিনি জবাবে বলেন, গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শান্তি আনার লক্ষ্যেই কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখালেও, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবিশ্বাস এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।