১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম! আমেরিকার মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে এক টেবিলে আলোচনায় বসল যুযুধান দুই পক্ষ ইজরায়েল ও লেবানন। সংঘাত থামিয়ে শান্তি ফেরাতে দুই ঘণ্টার ‘গঠনমূলক’ আলোচনা শেষে কী জানাল দুই দেশ?

ওয়াশিংটনে লেবানন-ইজরায়েল
শেষ আপডেট: 15 April 2026 07:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৩ বছরে প্রথমবার মুখোমুখি লেবানন ও ইজরায়েল (Israel-Lebanon Meeting)। উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ার আবহে এই বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে প্রথম দফার বৈঠক হয়, যেখানে দুই পক্ষই আলোচনা ‘ইতিবাচক’ বলে জানায় কিন্তু মূল মতভেদ এখনও কাটেনি।
এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজক ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ে তিন পক্ষ একসঙ্গে বৈঠকে বসল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই আলোচনা ঘিরে কৌতূহল ও নজর ছিল তুঙ্গে।
লেবাননের তরফে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মোয়াওয়াদ। বৈঠকের পর তিনি জানান, আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে। তবে পরবর্তী দফার বৈঠক কবে, তা পরে জানানো হবে। তাঁর কথায়, বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল চলতি সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া মানবিক সংকট মোকাবিলা করা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) প্রয়োজন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের দ্রুত নিজেদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।' এর পাশাপাশি, পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর পদক্ষেপের উপরও জোর দেন তিনি। লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শত্রুতা বন্ধের ঘোষণাটি পূর্ণভাবে কার্যকর করার দাবি জানান শেষে।
এদিকে, ইজরায়েলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বৈঠককে “দুই ঘণ্টার অসাধারণ আলোচনা” বলে বর্ণনা করেন। তবে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। বরং তাঁদের মূল লক্ষ্য যে ইজরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তা স্পষ্ট করেন।
এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে লেবাননের অন্যতম প্রধান দাবি—ইজরায়েলি বাহিনী ও হেজবোলার মধ্যে যুদ্ধবিরতি। অন্যদিকে, ইজরায়েলের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হেজবোলার নিরস্ত্রীকরণ এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথ তৈরি।
এক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। যাতে লেবানন ছিল না। ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার রাত থেকেই দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালায় ইজরায়েল। শান্তি ফেরাতে দ্রুত তৎপর হয় দুই পক্ষই। গোটা অঞ্চলের অস্থিরতার মাঝে এই আলোচনা নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।