ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার উপর জোর দিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক পথে সমাধানের উপর গুরুত্ব আরোপ করে দিল্লি।

লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিল্লির
শেষ আপডেট: 10 April 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেবাননে রক্তপাত ঘিরে গভীর উদ্বেগে ভারত। শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিল কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ (India on Lebanon crisis)।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, লেবাননে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত চিন্তার। তিনি স্পষ্ট করেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা সর্বাগ্রে থাকা উচিত।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখার উপর জোর দিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক পথে সমাধানের উপর গুরুত্ব আরোপ করে দিল্লি (Indian foreign policy)।
লেবাননে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ভারতীয় বাহিনীর উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন জয়সওয়াল। তাঁর কথায়, 'শান্তি রক্ষার কাজে যুক্ত দেশ হিসেবে পরিস্থিতির এই অবনতি ভারতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের।'
এদিকে, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তায় কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, লেবাননে ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি নজর রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে সফর করছেন।
জানা গিয়েছে, বিদেশমন্ত্রী শীঘ্রই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরে যাবেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কাতার সফরে রয়েছেন এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন।
ভারত শুধু নিজের জ্বালানি সুরক্ষা নয়, প্রতিবেশী দেশগুলিকেও সহায়তা করছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাকে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। মরিশাসের সঙ্গেও তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়।
সব মিলিয়ে, একদিকে লেবাননের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে জ্বালানি কূটনীতি জোরদার—দুই দিকেই সক্রিয় দিল্লি।