ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল “সম্পূর্ণ বন্ধ” থাকবে। যদিও প্রথমে দু’টি জাহাজকে পার হতে দেওয়া হয়েছিল, পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয় তেহরান।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 April 2026 07:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ (Strait of Hormuz closure) করে দিল ইরান। বুধবার এই পদক্ষেপের কথা জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত ফার্স নিউজ এজেন্সি। অর্থাৎ, আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা কোনভাবেই কমছে না (global oil supply disruption)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন তেহরানের সঙ্গে। কিন্তু তার পরেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইরানের অভিযোগ, লেবাননে হিজবোল্লার ঘাঁটিতে ইজরায়েলের হামলা (Hezbollah Israel strikes) এই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে (Iran Israel conflict Lebanon)। এই হামলায় ইতিমধ্যেই ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল “সম্পূর্ণ বন্ধ” থাকবে। যদিও প্রথমে দু’টি জাহাজকে পার হতে দেওয়া হয়েছিল, পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয় তেহরান।
হরমুজ বন্ধ করার পরই মার্কিন প্রশাসন ইরানকে অবিলম্বে প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড়। এদিকে ইজরায়েলের দাবি, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। যদিও সেই দাবি সরাসরি খারিজ করেছে তেহরান। ইরানের বক্তব্য, যুদ্ধবিরতি যদি হয়, তা হলে তা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে হবে, শুধু ইরান নয়, লেবানন-সহ সমস্ত মিত্র শক্তির উপরও।
ইরানের পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন পলিসি কমিটির মুখপাত্র এব্রাহিম রেজাই কড়া ভাষায় বলেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে এই বর্বর জায়নিস্ট আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনই বন্ধ করা উচিত। লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমরা তাদের এক মুহূর্তের জন্যও একা ছেড়ে যেতে পারি না। যুদ্ধবিরতি হবে সব ফ্রন্টে, না হলে কোথাও নয়।”
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবারের বেশিরভাগ হামলাই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হয়েছে। দক্ষিণ বেইরুট ও দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় আগে থেকে সতর্কতা জারি করা হলেও, কেন্দ্রীয় বেইরুটে কোনও আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি, যেখানে হামলা হয়েছে।
এই হামলার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে হিজবোল্লা। তারা এই হামলাকে “বর্বর আগ্রাসন” বলে আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জানায়।
ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি কর্পস (IRGC) সতর্ক করেছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে “অনুশোচনাজনক পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ অউন জানিয়েছেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর মধ্যে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেজবোল্লাহর কারণে লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তিনি পরিস্থিতিকে “আলাদা সংঘর্ষ” বলে উল্লেখ করেন, যদিও পরে বলেন বিষয়টি “মিটিয়ে ফেলা হবে”। হোয়াইট হাউসও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মার্চ ২ থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে লেবাননে এখনও পর্যন্ত ১,৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৩০ জন শিশু এবং ১০০-রও বেশি মহিলা। এই সংঘাত শুরু হয়, যখন ইরানের সমর্থনে হেজবোল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা শুরু করে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো।