ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেলের দাম প্রায় ১০-২০ শতাংশ কমে যায়। এই দাম কমার কারণ, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দু’সপ্তাহের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস পরিবহন হয়।

ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 8 April 2026 08:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করলেন, ইরানের (Iran) ওপর হামলা দু’সপ্তাহের জন্য থামানো হচ্ছে, আর সেই ঘোষণা বাজারে পৌঁছাতেই তেলের দামে বড় পতন (Oil Price), চাঙ্গা হল শেয়ারবাজার (Share Market)। যুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্ব হঠাৎ যেন একটু স্বস্তির বাতাস পেল।
বুধবার কী ঘটল?
ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেলের দাম প্রায় ১০-২০ শতাংশ কমে যায়। এই দাম কমার কারণ, হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দু’সপ্তাহের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস পরিবহন হয়। এটি বন্ধ থাকলে সঙ্কটের কারণে পুরো পৃথিবীতেই জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ে।
কেন এত উত্তেজনা ছিল বাজারে?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যৌথ আঘাতের মুখে ইরান (US Israel Iran War) হরমুজ প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে, তেল ট্যাঙ্কার (Oil Tanker) ওই পথ এড়িয়ে চলা শুরু করে, বীমা খরচ বাড়ে, সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর ফলেই মার্চ মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
তেলের দাম বাড়তেই বাড়তি চাপে পড়ে যায় বিশ্বের অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থেকে শুরু করে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ, সব জায়গায় ঝড় তুলেছিল এই জ্বালানি সঙ্কট।
কীভাবে হাওয়া বদলাল?
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, 'আমরা সামরিক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই পূরণ করেছি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তাই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও জানান, ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা আলোচনার জন্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। তবে শর্তও জুড়ে দেন তিনি, ইরানকে অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী পুরো খুলে দিতে হবে।' এর পরই ইরান জানায়, হামলা বন্ধ থাকলে দু'সপ্তাহের জন্য তারা হরমুজ পুরোপুরি খুলতে প্রস্তুত।
এই দু’টি বিবৃতি বাজারে পৌঁছানো মাত্রই-
বিনিয়োগকারীরা ধরে নিয়েছেন, অন্তত আপাতত আর তেল সরবরাহে বড় অসুবিধা হবে না।
তাহলে কি আতঙ্ক কেটে গেল?
তবে সব বিশ্লেষকই বলছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি। দু'সপ্তাহ পর কী হবে, সেটা নির্ভর করছে ইরান-মার্কিন আলোচনা কতটা এগোয় তার ওপর। যদি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হয়, তাহলে তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে। যদি ব্যর্থ হয়, আবারও ভড়কে যেতে পারে বিশ্ববাজার। এখন নজর ইরান-মার্কিন কূটনৈতিক আলোচনার দিকে।