ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Iran US ceasefire) দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত বন্ধ হচ্ছে 'আঘাত-প্রত্যাঘাত', আর আবার খুলে দেওয়া হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali), যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 April 2026 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আজ রাতেই এক পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে'- এমন বিস্ফোরক হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Iran US ceasefire) দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে আপাতত বন্ধ হচ্ছে 'আঘাত-প্রত্যাঘাত', আর আবার খুলে দেওয়া হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali), যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।
ট্রাম্প Truth Social–এ পোস্ট করে জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং তাঁর ফিল্ড মার্শালএবং পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) প্রস্তাবেই তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন। দুই সপ্তাহের এ বিরতিতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথে এগোতে চায়।
ট্রাম্প লেখেন, “আমরা সামরিক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই পূরণ করেছি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তাই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও জানান, ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা আলোচনার জন্য যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। তবে শর্তও জুড়ে দেন তিনি, ইরানকে অবিলম্বে ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী পুরো খুলে দিতে হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাগচি এক্স হ্যান্ডেলে লিখে জানান, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তরফে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিচ্ছে। তাঁর কথায়, “যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও সমস্ত প্রতিরক্ষামূলক অভিযান স্থগিত করবে।” দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চিনের চাপেই নরম হয় ইরান?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে তিন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে চিনের হস্তক্ষেপে ইরান প্রস্তাবটি মানতে রাজি হয়। চিনের অনুরোধ ছিল, ইরান যেন পরিস্থিতি শান্ত করতে নমনীয়তা দেখায়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেন।
উল্লেখযোগ্য, এর আগে ইরান বলেছিল, স্থায়ী শান্তিচুক্তি ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালী খুলবে না। কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলেছে।
যুদ্ধের ভয়াবহ দাম
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মারা গেছে ১,৯০০-রও বেশি মানুষ। লেবাননে, যেখানে ইজরায়েল হিজবুল্লার সঙ্গে লড়াই করছে, মৃত ১,৫০০-র বেশি, ঘরছাড়া ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ইজরায়েলে নিহত ২৩ জন, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনাসদস্য ১৩ জন।
যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমালেও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী দুই সপ্তাহই ঠিক করবে, ভবিষ্যত শান্তি নাকি নতুন সংঘাত।