ইরানের বিরুদ্ধে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসলেও ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, 'প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমি একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতি ঠিক করতে পারবেন।”
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 7 April 2026 10:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একমাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইরান বা আমেরিকা (Iran-US) কেউই মাথা নত করতে রাজি নয়। জ্বালানি সঙ্কট (Fuel Crisis) তীব্র হচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির মতো আশঙ্কা বাড়ছে, এর মধ্যেও সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মনোভাবই প্রকাশ পাচ্ছে তাদের। এদিকে তেহরানকে (tehran) দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'ডেডলাইন' শেষ হচ্ছে আজই। 'এক রাতেই ইরানকে শেষ করে দিতে পারি', আরও একবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প (Donald Trump)।
এর আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) খুলতে না চায় বা আলোচনায় বসতে রাজি না হয় তাহলে তিনি ইরানের অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুতে আঘাত হানবেন। তিনি বলেছিলেন, “সব কিছু নষ্ট হয়ে যাবে-কোনও সেতু থাকবে না, কোনও পাওয়ার প্ল্যান্ট থাকবে না, কিছুই থাকবে না। আর তার চেয়ে খারাপ জিনিসও আছে, কিন্তু আমি এখন আর বলছি না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, দেশের নাগরিকদের নিরাপদে উদ্ধার করতে তিনি মার্কিন সেনাদের (US Army) নির্দেশ দিয়েছেন যেকোনও পদক্ষেপ নেওয়ার। একইসময় ইরানের (Iran) মানুষদের উদ্দেশেও তাঁর বার্তা ছিল, যদি ইরানের জনগণ সশস্ত্র হতে পারে এবং নিরাপদে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে পারে, তবে সরকার সহজেই হার মানবে।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আসলেও ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, 'প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমি একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতি ঠিক করতে পারবেন।” অন্যদিকে, ইরানও ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের তেল দখলের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে থাকলে আমি শুধু তেল দখল করতাম, কিন্তু আমি জানি না মার্কিন জনতা সেটা চায় কি না। তারা চায় আমরা যাই, যা করতে হবে করি, তারপর বের হয়ে আসি।”
এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের রীতিমতো হুমকির সুর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উপর নতুন চাপ তৈরি করছে, আর একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতেই ইরানের সরকার দেশের নানা প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে 'মানব বন্ধন' (Human Chain) গড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় (Iran Ministry of Sports and Youth) জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল প্রস্তাব এসেছে তরুণদের কাছ থেকেই। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, শিল্পীরা ও তরুণ সংগঠনগুলো মিলে এই উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়ের যুববিষয়ক উপ-প্রধান আলিরেজা রাহিমি বলেন, তরুণদের প্রস্তাবেই মানব শৃঙ্খল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে, 'উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানের তরুণদের মানব বন্ধন।'