ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে চার ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তাঁর কথায়, 'আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি হোক, কিন্তু হলে আমাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত।' লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ একাধিক বেসামরিক ঘাঁটি।

শেষ আপডেট: 7 April 2026 07:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধবিরতির আশায় শান্তি আলোচনা হলেও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যস্থতায় হওয়া সেই বৈঠক যে বিফলেই গেছে, একথা একপ্রকার পরিষ্কার হয়ে গেছে। ইরান বা আমেরিকা (Iran US War) কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়, প্রয়োজনে সংঘাত চালিয়ে যেতেও হয়তো প্রস্তুত তারা। আর এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের (Iran US Conflicts) মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে ইরানে তৈরি হচ্ছে নতুন এক প্রতীকী প্রতিবাদের পরিবেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যে ডেডলাইন দিয়েছিলেন তা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই দেশটির যুব মন্ত্রণালয় দেশের নানা প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে 'মানবশৃঙ্খল' (Human Chain) গড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় (Iran Ministry of Sports and Youth) জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল প্রস্তাব এসেছে তরুণদের কাছ থেকেই। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, শিল্পীরা ও তরুণ সংগঠনগুলো মিলে এই উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়ের যুববিষয়ক উপ-প্রধান আলিরেজা রাহিমি বলেন, তরুণদের প্রস্তাবেই মানব শৃঙ্খল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে, 'উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ইরানের তরুণদের মানবশৃঙ্খল।'
তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২টো থেকে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে তরুণরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করবেন। এই পদক্ষেপ তরুণদের দেশের অবকাঠামো রক্ষায় প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিবাদের কারণে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন, মঙ্গলবার মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নিতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে চার ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তাঁর কথায়, 'আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি হোক, কিন্তু হলে আমাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত।' লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ একাধিক বেসামরিক ঘাঁটি।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ট্রাম্প এসব প্রশ্নকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তিনি সোজাসাপ্টা বলেন, “আমি একদমই চিন্তিত নই।”
ডেডলাইনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কূটনৈতিক অস্থিরতা। ইরানের ভেতরে মানবশৃঙ্খল গড়ার এই প্রতীকী প্রচেষ্টা এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের ঐক্য ও সংকটমোচনের বার্তা হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, বিশ্ব এখন সেই দিকে তাকিয়ে।