ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, নেতৃত্বে আঘাত এলেও তাদের অপারেশনাল ক্ষমতা অটুট রয়েছে। সংগঠনভিত্তিক কমান্ড ব্যবস্থার কারণে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 7 April 2026 00:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন চাপ এবং সামরিক হুমকির মাঝেও কঠোর অবস্থানেই থাকল ইরান (Middle East conflict escalation)। দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “হত্যা ও অপরাধ” কোনওভাবেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষমতা নষ্ট করতে পারবে না (Iran Supreme Leader warning US)।
টেলিগ্রামে পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো (US Israel attack on Iran Army) লক্ষ্য হলেও, দেশের সামরিক সক্ষমতায় কোনও প্রভাব পড়েনি। বরং তিনি জোর দিয়েছেন সেনাবাহিনীর সংগঠিত কাঠামো ও পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতার উপর।
এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ধারাবাহিক হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন।
ইজরায়েলি সূত্র অনুযায়ী, মাজিদ খাদেমি, যিনি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর এক শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিক এবং কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান কমান্ডার আসঘার বাঘেরি সোমবার মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন। এই ঘটনাকে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের উপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
তবে ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, নেতৃত্বে আঘাত এলেও তাদের অপারেশনাল ক্ষমতা অটুট রয়েছে। সংগঠনভিত্তিক কমান্ড ব্যবস্থার কারণে তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।
এরই মধ্যে আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করেছে ইরান। তাদের দাবি, সাময়িক বিরতি নয় - পুরোপুরি যুদ্ধের অবসান প্রয়োজন, এবং তা আরব দুনিয়ার সব ক্ষেত্রেই (লেবানন ও গাজা-সহ) কার্যকর হতে হবে। একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আমেরিকার সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার দাবিও তুলেছে তেহরান।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা (ET) পর্যন্তই ইরানের জন্য সময়সীমা রয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ওরা যদি আমাদের দাবি না মানে, তাহলে কী হবে সেটা দেখতে হবে।” তাঁর আরও মন্তব্য, আমেরিকার হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে, “আমরা চাইলে এখনই সরে যেতে পারি, কিন্তু ওদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে ১৫ বছর লেগে যাবে… তবে আমি বিষয়টা শেষ করতে চাই।”