বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তান। উত্তেজনার মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় তারা। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্কও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। এই দেশগুলির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে।

শেষ আপডেট: 6 April 2026 23:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিল ইরান (Iran rejects US ceasefire)। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো জবাবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয়, বরং চাইছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। সেই লক্ষ্যেই ১০ দফা শর্তের (Iran 10 conditions war) একটি বিস্তৃত কাঠামো সামনে এনেছে তারা।
ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের এই জবাব ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের মূল কথা, শুধু নিজেদের ভূখণ্ডে নয়, লেবানন ও গাজাতেও সংঘাতের সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আবার যুদ্ধ না শুরু হয়, তার নির্দিষ্ট গ্যারান্টিও চেয়েছে তেহরান। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করেছে ইরান। শুধু নিয়ন্ত্রণই নয়, ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অধিকারও চায় তারা।
এই জবাব এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও পরিকাঠামোতে হামলার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যুদ্ধের ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।
কায়রোয় ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মোজতবা ফিরদৌসি পৌর অ্যাসোসিয়েট প্রেস-কে জানিয়েছেন, “আমরা শুধু যুদ্ধবিরতি মেনে নেব না। আমরা চাই যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান, এবং সেই সঙ্গে নিশ্চয়তা - আমাদের উপর আর আক্রমণ হবে না।”
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আমেরিকার হাতে “অনেক বিকল্প” রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চাইলে আমেরিকা এখনই পিছিয়ে আসতে পারে, কিন্তু তাতে ইরানের ঘুরে দাঁড়াতে বহু বছর লেগে যাবে। একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “আমরা বিষয়টা শেষ করতে চাই।”
ট্রাম্প ফের জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না”, যদিও তেহরান বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এক হোয়াইট হাউস আধিকারিক সিবিএস নিউজ-কে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের তরফে দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি “অনেকগুলির মধ্যে একটি মাত্র ধারণা”। এখনও পর্যন্ত এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, “অপারেশন এপিক ফিউরি” এখনও চালু রয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তান। উত্তেজনার মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় তারা। পাশাপাশি মিশর ও তুরস্কও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত। এই দেশগুলির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে।