ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমেইল বাঘেই সোমবার জানান, দেশের “স্বার্থ” এবং “রেড লাইন”-এর ভিত্তিতেই তাদের দাবির খসড়া তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের নিজস্ব স্বার্থ ও বিবেচনার ভিত্তিতেই আমরা আমাদের দাবিগুলি নির্ধারণ করেছি। প্রয়োজন হলে সঠিক সময়ে তা জানানো হবে।”

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমেইল বাঘেই
শেষ আপডেট: 6 April 2026 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকা যে সাম্প্রতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তা নিয়ে কড়া বার্তা দিল ইরান (Iran US diplomatic response)। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান (Iran diplomacy) তৈরি করে ফেলেছে এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে ইসফাহানে সাম্প্রতিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে সেটিকে ‘ইউরেনিয়াম চুরির ছক’ (Isfahan uranium plot) বলেও অভিযোগ তুলেছে তারা।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমেইল বাঘেই সোমবার জানান, দেশের “স্বার্থ” এবং “রেড লাইন”-এর ভিত্তিতেই তাদের দাবির খসড়া তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের নিজস্ব স্বার্থ ও বিবেচনার ভিত্তিতেই আমরা আমাদের দাবিগুলি নির্ধারণ করেছি। প্রয়োজন হলে সঠিক সময়ে তা জানানো হবে।”
এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন খবর সামনে এসেছে যে আমেরিকার সমর্থনে একটি প্রস্তাব, যা ‘১৫ দফা পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, চলতি সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে সামনে আনা হয়েছে।
তবে সেই প্রস্তাবকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের মতে, এটি “অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক”। ফলে বর্তমান অবস্থায় এই কাঠামো মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
একইসঙ্গে, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখার যে প্রবণতা রয়েছে, সেটাও উড়িয়ে দিয়েছেন বাঘেই। তাঁর সাফ বক্তব্য, “দ্রুত এবং স্পষ্টভাবে আমাদের অবস্থান জানানো আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত নয়।”
ইসফাহান অভিযান নিয়ে তীব্র অভিযোগ
ইসফাহানে সাম্প্রতিক অভিযানের প্রসঙ্গে আরও কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে ইরান। তাদের অভিযোগ, সামরিক অভিযানের আড়ালে আমেরিকা আসলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিশানা করতে চেয়েছিল।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অভিযান আসলে ইউরেনিয়াম চুরি করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়ে থাকতে পারে - যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি তেহরানের। এই ঘটনাকে “বিপর্যয়” এবং “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দিয়ে ইরান বলেছে, এই অভিজ্ঞতা থেকে আমেরিকার শিক্ষা নেওয়া উচিত।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবেও ‘না’
শুধু তাই নয়, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ধারণাকেও নাকচ করেছে তেহরান। তাদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি মানে ভবিষ্যতে আবার সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ইরানের বক্তব্য, “অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মানে অপরাধ আবার শুরু করার প্রস্তুতি।” তাই তারা সম্পূর্ণভাবে সংঘর্ষের অবসান এবং ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সেই নিশ্চয়তা চাইছে।
ইরানের আরও অভিযোগ, সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমেরিকা কার্যত কূটনীতিকে সরিয়ে রেখেছে। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ওয়াশিংটন তার নীতির কেন্দ্র থেকে আলোচনাকেই বাদ দিয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব যে এখনও যথেষ্ট, তা আরও একবার স্পষ্ট হল ইরানের এই কড়া অবস্থানেই।