Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতারনববর্ষে বাঙালিয়ানার ষোলো আনা স্বাদ! ঢাকাই কালো ভুনা থেকে আম পেঁয়াজির যুগলবন্দি, মিলবে এই রেস্তরাঁয়‘কোভিড ভ্যাকসিনই হার্ট অ্যাটাকের কারণ!’ শেন ওয়ার্নের মৃত্যু নিয়ে ছেলের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এবার রক্তদান শিবিরেও কমিশনের ‘নজরদারি’! রক্তের আকাল হলে কী হবে রোগীদের? প্রশ্ন তুললেন কুণালমারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সির লাইসেন্স! ১ মে থেকে কড়া নিয়ম মহারাষ্ট্রেআশা ভোঁসলেকে শ্রদ্ধা জানাতে স্থগিত কনসার্ট, গায়িকার নামে হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগউৎসবের ভিড়ে হারানো প্রেম, ট্রেলারেই মন কাড়ছে ‘উৎসবের রাত্রি’

হরমুজ খুলবে? যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আমেরিকা-ইরানের সামনে রয়েছে দু'ধাপের শান্তি পরিকল্পনা

পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার থেকেই তা কার্যকর করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি তৈরি করেছে পাকিস্তান, এবং রাতারাতি তা দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। 

হরমুজ খুলবে? যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আমেরিকা-ইরানের সামনে রয়েছে দু'ধাপের শান্তি পরিকল্পনা

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 6 April 2026 18:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার (Middle East tension) আবহে বড়সড় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত - আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে সামনে এসেছে একটি দু’ধাপের শান্তি প্রস্তাব (Iran US peace talk)। সেই প্রস্তাব (Iran US ceasefire plan) অনুযায়ী, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে, আর তার ফলে খুলে যেতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz reopening)।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সোমবার থেকেই তা কার্যকর করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি তৈরি করেছে পাকিস্তান, এবং রাতারাতি তা দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার প্রথম ধাপ - তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি। দ্বিতীয় ধাপ - একটি বৃহত্তর, স্থায়ী চুক্তির দিকে এগোনোর জন্য আলোচনা শুরু।

সূত্রের দাবি, “সব দিক নিয়ে আজই ঐকমত্যে পৌঁছনো জরুরি।” প্রাথমিক সমঝোতাটি একটি মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) আকারে হবে, যা পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইলেকট্রনিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই আলোচনায় পাকিস্তানই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

এর আগে অ্যাক্সিঅস জানিয়েছিল, আমেরিকা, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। এটি একটি দুই-পর্যায়ের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির গতরাতভর প্রায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালী। এরপর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে “ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড” (Islamabad Accord)। এতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে একটি আঞ্চলিক কাঠামো তৈরির কথাও রয়েছে, এবং চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ইসলামাবাদে।

চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না হাঁটার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। এর বদলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা সম্পদ মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে প্রকাশ্যে এখনও কড়া অবস্থানেই রয়েছে তেহরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস নেভি জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে হরমুজে যে পরিস্থিতি ছিল, তা “আর কখনও ফিরবে না”, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য।

ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি এই আলোচনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, কোনও আলোচনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্তরে। তাঁর কথায়, “যখনই মনে হবে কূটনীতির মাধ্যমে ইরানের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করা সম্ভব, তখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি, আলোচনা এবং ফের যুদ্ধ - এই চক্র আমাদের খুব খারাপ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তাই এবার আমরা সতর্ক।”

এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সংঘর্ষ শেষ করার জন্য চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে তার “গুরুতর পরিণতি” হতে পারে।

রবিবার অ্যাক্সিওস-কে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে জোরদার কূটনৈতিক যোগাযোগ চালাচ্ছে এবং মঙ্গলবারের নির্ধারিত সময়সীমার আগে চুক্তিতে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। তাঁর সাফ বার্তা, “সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু যদি তারা চুক্তি না করে, তাহলে আমি ওখানে সবকিছু উড়িয়ে দেব।”


```