অবিলম্বে যুদ্ধ থামাতে ইরান ও আমেরিকার কাছে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পেশ করেছে পাকিস্তান। এই প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

শেষ আপডেট: 6 April 2026 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবিলম্বে যুদ্ধ থামাতে ইরান ও আমেরিকার কাছে শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পেশ করেছে পাকিস্তান। এই প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম এবং বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা দাবি করেছে, রবিবার রাতভর এই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চালিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান। ভোররাতে এই প্রস্তাব আমেরিকা ও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের তরফে এই প্রস্তাবকে আপাতত 'ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বলা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট তিনপক্ষ এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে নীরব।
তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে তারা এই খসড়া প্রস্তাবের বক্তব্য জানতে পেরেছে। ব্রিটিশ ওই সংবাদ সংস্থার দাবি খসড়া প্রস্তাবে দুটি ধাপ আছে। একটি ধাপ হল অবিলম্বে ১৫ দিনের জন্য যুদ্ধ বিরতি। এই সময় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে সমস্ত দেশের জন্য। ১৫ দিন পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ফের আলোচনায় বসবে। এই এক পক্ষকাল ইরানের পরমাণু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উপর কোন ধরনের হামলা করা হবে না, এই বোঝাপড়া মেনে চলবে আমেরিকা।
যদিও পাকিস্তানের এই তৎপরতা কতটা সফল হবে তার নিয়ে ঘোর সংশয় আছে ইজরায়েলকে নিয়ে। পাকিস্তানের এই শান্তি প্রয়াসে কখনই সায় দেয়নি তেল আবিব। এমনকী যুদ্ধ বিরতির কোন প্রস্তাবেই সায় দেননি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন আমেরিকার সিদ্ধান্ত ইজরায়েল মেনে চলবে।
রবিবার রাতে পাক সেনাপ্রধান মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে অনলাইনে আলোচনা চালান। দুদিন আগে ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তানের শান্তি প্রয়াসে তাদের সায় আছে। কিন্তু ট্রাম্পের প্রস্তাবে তেহরান কখনই সাড়া দেয়নি। আব্বাস আরাগচি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন আমেরিকাকে তারা বিশ্বাস করে না। এখন দেখার পাকিস্তানের শান্তি প্রয়াসে ইরান এবং আমেরিকার সাড়া দেয় কিনা এবং দিলে তাতে কী অবস্থান নেয় ইজরায়েল।