হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিতে (Hormuz opening trump warning) তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের (Trump hell post controversy) জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 5 April 2026 21:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে (Iran) ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ তীব্রতর। এই আবহেই প্রকাশ্যে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কুরুচিকর ভাষায় হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবিতে (Hormuz opening trump warning) তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের (Trump hell post controversy) জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর ‘Truth Social’ পোস্টে স্পষ্ট হুমকি দিয়ে লিখেছেন—মঙ্গলবার ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলির ওপর বড়সড় হামলা চালানো হবে। সেই সঙ্গেই ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় বলেন, “হরমুজ প্রণালীটা খুলে দাও, না হলে তোদের জন্য নরকের দরজা খুলে যাবে—দেখে নিও!” এই মন্তব্যের মধ্যেই ইরানকে বেজন্মা বলে গালমন্দ করেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, সরাসরি সতর্কবার্তা
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে, ব্রিজ ডে—সব একসঙ্গে।” অর্থাৎ, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এই হুমকি এমন সময়ে এল, যখন ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
এই পোস্টের কিছুক্ষণ আগেই ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের ভিতরে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে গিয়ে একটি F-15 যুদ্ধবিমানের আহত ক্রুকে উদ্ধার করেছে। তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনী ওই পাইলটকে খুঁজছিল এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক ছিল।
ইরানও চুপ করে নেই। তাদের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি দেশের পরিকাঠামোর উপর হামলা চালানো হয়, তবে মার্কিন স্বার্থে ব্যবহৃত সমস্ত স্থাপনাকেই লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প অতীতেও কড়া ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন, কিন্তু এবারের মন্তব্যে ব্যবহৃত শব্দচয়ন কূটনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-মার্কিন সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, ভাষা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে। আর ট্রাম্পের এই মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।