তেহরান ট্রাম্পের (Donald Trump) শর্তগুলি মানতে কোনওভাবেই রাজি ছিল না। ফলে পরিস্থিতি যে আবারও হাতের বাইরে বেরোতে পারে, আঁচ মিলেছিল আগেই। এবার সেই শঙ্কাই সত্যি হল! হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 4 April 2026 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের (West Asia Conflict) প্রায় দেড় মাস। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (Iran US peace talk) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। তবে তেহরান ট্রাম্পের (Donald Trump) শর্তগুলি মানতে কোনওভাবেই রাজি ছিল না। ফলে পরিস্থিতি যে আবারও হাতের বাইরে বেরোতে পারে, আঁচ মিলেছিল আগেই। এবার সেই শঙ্কাই সত্যি হল! হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, "ইরানের হাতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা সময় রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে তেহরান হয় চুক্তি করবে, নয়তো হরমুজ প্রণালী খুলবে, নাহলে ভয়ঙ্কর ঝড় নামবে ইরানে।
ট্রাম্প তাঁর প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “মনে আছে, আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম, চুক্তি করো অথবা হরমুজ খুলে দাও। সময় দ্রুত শেষ হচ্ছে, ৪৮ ঘণ্টা বাকি। এরপর নেমে আসবে ভয়াবহ ঝড়। ঈশ্বর মহান!”
এর আগে ২৬ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান (Iran War) তাঁর কাছে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল। তাঁর ভাষায়, তেহরান চেয়েছিল সাত দিনের বিরতি, যাতে মার্কিন আক্রমণ থেকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো কিছুটা রক্ষা পায়। কিন্তু তিনি সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ দিন করে দেন এবং চূড়ান্ত ডেডলাইন ঠিক করেন ৬ এপ্রিল।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, “তারা খুব ভদ্রভাবে বলেছিল, আরও সময় পাওয়া যাবে কি না। কারণ পরের রাতেই ডেডলাইন ছিল। আর যদি তারা যা করার কথা তা না করে, তবে আমি তাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট উড়িয়ে দেব।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “তারা আমার জাহাজ ফেরত দিয়েছে, তাই আমি সাত নয়, দশ দিন সময় দিয়েছি।”
যদিও ইরান আগেই বলেছিল—ওয়াশিংটনের প্রস্তাব “একপাক্ষিক ও অন্যায্য”, তাই তারা এমন কোনো সমঝোতায় আগ্রহী নয়। এদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ইরানের সংসদ স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মন্তব্যে। তিনি সরাসরি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ- বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতার বিষয়ে। এই প্রণালী দিয়েই সুয়েজ খালমুখী বিশ্বের মোট কন্টেনার জাহাজের প্রায় এক-চতুর্থাংশ চলাচল করে। ঘালিবাফ প্রশ্ন করেছেন, “বিশ্বের তেল, গ্যাস, গম, চাল, সার- কতটা বাব আল-মান্দেবের ওপর নির্ভরশীল? কোন দেশ ও কোম্পানির সবচেয়ে বেশি জাহাজ যায় এই জলপথ দিয়ে?”
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার এই ডেডলাইন শেষ হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।