যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পরই ট্রাম্প বলেছিলেন ইরান (Iran US War) নিয়ে আমার যা খুশি তাই করতে পারি। এরপর বলেন আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব। গত এক সপ্তাহে তিনি হুমকি দিয়েছেন ইরানের পানীয় জল শোধনাগার গুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

ইরান যুদ্ধ
শেষ আপডেট: 4 April 2026 09:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) ও তাঁর সহচরদের নানা সময়ের বক্তব্য নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছিল আগেই। ঝড়ের দমকা হাওয়া এখন দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) জন্য। সে দেশে প্রতিদিনই যুদ্ধ বিরোধী সমাবেশ মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাখ লাখ মার্কিনী তাতে সামিল হচ্ছেন।
এরই মধ্যে একাধিক মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন এবং ব্যক্তি এক বিশাল খোলা চিঠিতে বলেছেন, ইরান সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর সহকারীরা যেসব মন্তব্য করেছেন, তা যুদ্ধপরাধের শামিল হতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পরই ট্রাম্প বলেছিলেন ইরান (Iran US War) নিয়ে আমার যা খুশি তাই করতে পারি। এরপর বলেন আমরা ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব। গত এক সপ্তাহে তিনি হুমকি দিয়েছেন ইরানের পানীয় জল শোধনাগার গুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধুলিস্যাৎ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ইতিমধ্যে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী (US ISrael ) ইরানের বেশ কয়েকটি হাসপাতালের উপর হামলা চালিয়েছে।
এইসব ঘটনা তুলে ধরে মার্কিন জনতার একাংশ বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে বলেছে সকলেরই উচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিন্দা করা। ট্রাম্পের জমানায় দেশের ভেতরে এমন প্রতিবাদ নজিরবিহীন।
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী পিট হেগসেথ গতমাসে বলেন, ইরানে তারা যুদ্ধের ‘বোকামিপূর্ণ’ নিয়মগুলি বিবেচনায় রেখে লড়ছে না। ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে করে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মহম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে বলেন, মার্কিন বক্তব্য নজিরবিহীন। তাঁর এই বক্তব্য এবং বেসরকারি স্থাপনায় হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি ইরানে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
ডেমোক্র্যাট পার্টির উদ্যোগে মার্কিন বিশিষ্টজনদের এই খোলা চিঠিতে সই করেছেন সে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া একাধিক মার্কিন মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান তারাও এই বিষয়ে প্রচারে নেমেছে।
খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে কোন ধরনের উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরান আক্রমণ করে। এখনও পর্যন্ত কোন যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ এই যুদ্ধের পক্ষে হাজির করতে পারেনি তারা।
খোলা চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে ইরানের মিনাপ শহরে একটি প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা। সেই ঘটনায় ১৭৫ জন নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই শিশু। খোলা চিঠিতে এই বিষয়টিকে খুব বড় করে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং জেনিভা চুক্তি মানা হচ্ছে না। বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের উপর কোনও অবস্থাতে হামলা বরদাস্ত করা যায় না। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ইরানে এক লক্ষ ১৫ হাজার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক প্রধান কেনেথ রথ, মার্কিন বিদেশ দফতরের সাবেক আইন উপদেষ্টা হ্যারল্ড হংজু কোহ এবং ইয়েল ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক এবং আমেরিকান সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ল–এর প্রেসিডেন্ট ওনা এ হ্যাথাওয়ে, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ অ্যালস্টোন।
যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প এখন পর্যন্ত মোট পাঁচবার লড়াই থামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ দেননি। এই বিষয়টিও এসে খোলা চিঠিতে। বলা হয়েছে এতে আমেরিকার মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। ঘটনাচক্রের এই একই বিষয় নিয়ে আমেরিকাকে উপহাস করেছেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার
মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামিনিকে হত্যার পর গালিবাফ সেদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। শুক্রবার ইরান আমেরিকার দুটি যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে। এরপর মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার পাইলটদের সন্ধানের তল্লাশি শুরু করলে তার একটিকে ধ্বংস করে ইরানি বাহিনী।।
গালিবাফ এই ঘটনা নিয়ে উপহাস করে বলেছেন যারা ইরানে শাসনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা এখন পাইলটকে খুঁজে দেয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করছে।