ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না ইরান। পাকিস্তান-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে চেষ্টা চলছিল, তা আটকে গেছে বলেই রিপোর্টে উল্লেখ।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 4 April 2026 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে (West Asia Conflict) মার্কিন সামরিক বিমানের (US Jets) পরপর দু’টি দুর্ঘটনার মধ্যেও ইরানের (Iran Talks) সঙ্গে চলা আলোচনায় কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলি (US Jet) করে নামানো হয়েছে, এমন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, “না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ, আমরা যুদ্ধে আছি।” তাঁর দাবি, সামরিক অভিযান এবং কূটনীতি সমান্তরালভাবে এগোবে।
তবে ভূপাতিত বিমানটির উদ্ধারকাজ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি ট্রাম্প (US President Donald Trump)। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই বিস্তারিত এখন প্রকাশ করা ঠিক নয়। বরং তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন সাম্প্রতিক সংবাদ মাধ্যমের কভারেজ নিয়ে, যা তাঁর মতে, চলমান সামরিক পরিস্থিতির জটিলতা তারা ঠিকভাবে তুলে ধরছে না।
এদিকে শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর দুটি বড় ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথমে খবর পাওয়া যায়, একটি US F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে ইরান। দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, অন্যজনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাঁর বিষয়ে পরস্পরবিরোধী রিপোর্ট মিলেছে। কিছু সূত্র বলছে তিনি ইরানের হাতে আটক, অন্য সূত্র বলছে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর দেয় এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিমানটি গুলি করে নামানো হয়েছিল কিনা বা দুর্ঘটনার কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় কারও অবস্থার বিস্তারিত তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসও রিপোর্ট করে যে দ্বিতীয় একটি বিমান পতনের ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দিয়েছে তেহরানের অবস্থান। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না। পাকিস্তান-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যে চেষ্টা চলছিল, তা আটকে গেছে বলেই রিপোর্টে উল্লেখ।
মধ্যস্থতাকারীদের ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের বর্তমান দাবি তারা কোনওভাবেই মানতে পারবে না। ফলত, আলোচনার দরজা আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। মার্কিন যুদ্ধবিমান পতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে উঠলেও, ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার পথ এখনও বন্ধ হয়নি এবং যুদ্ধের মধ্যেও কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া হবে।