হুঁশিয়ারির পটভূমিতে রয়েছে ইরানের করাজ শহরে অবস্থিত ‘বি১ ব্রিজ’-এ সাম্প্রতিক হামলা। বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায় ১৩৬ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি, যা পশ্চিমী দুনিয়ার অন্যতম উচ্চতম সেতু হিসেবে পরিচিত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 April 2026 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় ক্রমেই চড়ছে যুদ্ধের পারদ (Middle East Tension)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা (US Israel Iran Conflict) নিয়ে ফের একবার পাল্টা বার্তা দিল ইরান। ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর তালিকা প্রকাশ করেছে তেহরান (Tehran)।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’-র প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র নিশানায় থাকতে পারে। তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সি ব্রিজ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শেখ জায়েদ ব্রিজ, আল মাকতা ব্রিজ ও শেখ খলিফা ব্রিজ। এছাড়াও সৌদি আরব ও বাহরিনকে যুক্ত করা কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হুঁশিয়ারির পটভূমিতে রয়েছে ইরানের করাজ শহরে অবস্থিত ‘বি১ ব্রিজ’-এ সাম্প্রতিক হামলা। বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায় ১৩৬ মিটার উচ্চতার এই সেতুটি, যা পশ্চিমী দুনিয়ার অন্যতম উচ্চতম সেতু হিসেবে পরিচিত। সেতুটি তখনও নির্মীয়মাণ অবস্থায় ছিল এবং তেহরানকে করাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ছিল।
ইরানের আলবোরজ প্রদেশের উপ-গভর্নর ঘোদরাতোল্লাহ সইফ জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৫ জন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের জেরে সেতুর বড় অংশ ভেঙে পড়ছে।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতু ভেঙে পড়েছে, আরও অনেক কিছু ধ্বংস হতে পারে।” তাঁর দাবি, ইরান দ্রুত আলোচনায় না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তবে পাল্টা সুরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সাধারণ পরিকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ইরানকে নত করা যাবে না। বরং এতে প্রতিপক্ষের নৈতিক পরাজয়ই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ অভিযানের পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে গোটা অঞ্চলে। ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৩০০-র বেশি মানুষ। পাল্টা হিসেবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলির উপর।