মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) হঠাৎ সুর বদলে মিত্র দেশগুলিকে বলেছেন, “নিজেদের তেল নিজেরা জোগাড় করুন। আমেরিকা আর সাহায্য করবে না।”

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির (Middle East Tension) জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) খুলতে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলি একসঙ্গে আলোচনায় বসছে! বৈঠকে অংশ নিতে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ব্রিটেন (UK)। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ভারতের পক্ষ থেকে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি (Vikram Misri) ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেবেন।
হরমুজ প্রণালী এবং জ্বালানি সংকট (Fuel Crisis) নিয়ে এদিন রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত ইতিমধ্যেই ইরান-সহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলি (Indian Fuel Tankers) নিরাপদে প্রণালী পার হতে পারে। গত কয়েক দিনে ছ'টি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে বলে জানান তিনি। এই জাহাজগুলিতে এলপিজি (LPG), এলএনজি (LNG) এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য ছিল।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি (Hormuz Pronali) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ শক্তি সরবরাহ এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। ভারতের জন্য গুরুত্ব আরও বেশি- দেশের আমদানিকৃত তেল, এলএনজি ও এলপিজির বড় অংশই এই রুটে আসে। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম লাগামছাড়া বাড়তে শুরু করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) হঠাৎ সুর বদলে মিত্র দেশগুলিকে বলেছেন, “নিজেদের তেল নিজেরা জোগাড় করুন। আমেরিকা আর সাহায্য করবে না।” সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ব্রিটেনকে কটাক্ষ করে আরও লেখেন, “আমাদের সাহায্য ছাড়াই ইরানকে প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে। এখন তোমরাই গিয়ে তেল নিয়ে আসো।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার (Keir Starmer) জানান, মোট ৩৫টি দেশ যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথে কাজ করতে একমত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশও। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমুদ্রে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এবং আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে বের করে আনতে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।
স্টার্মার আরও জানান, বৃহস্পতিবারের আলোচনায় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্ভাব্য সব পথ নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর সামরিক পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে কীভাবে প্রণালিকে ফের নিরাপদ করা যায়, সেই দিকেও নজর দেবে এই জোট।
যুক্তরাজ্যের বিদেশ সচিব ইয়ভেট কুপার বৈঠকটির সভাপতিত্ব করবেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকের পরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও কর্মপর্যায়ের বৈঠক হবে, যেখানে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।