এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করা। বিশেষ করে ইসফাহান এবং নাতানজের মতো পরমাণু কেন্দ্রে থাকা মজুতকে টার্গেট করা হতে পারে।

সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা
শেষ আপডেট: 2 April 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের মজুত করে রাখা ইউরেনিয়াম দখল করতে উচ্চঝুঁকিসম্পন্ন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে আমেরিকা (US plan to seize Iran uranium), এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে এক রিপোর্টে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই পরিকল্পনা (US Iran military operation uranium) তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে ইরানের মাটিতে সরাসরি শতাধিক, এমনকি হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে (Iran nuclear sites US strategy)। আধিকারিকদের মতে, এটি হবে নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত জটিল এক সামরিক অভিযান।
কী রয়েছে পরিকল্পনায়?
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম দখল করা। বিশেষ করে ইসফাহান এবং নাতানজের মতো পরমাণু কেন্দ্রে থাকা মজুতকে টার্গেট করা হতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সমস্ত জায়গার অনেক ইউরেনিয়াম আগের বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে, ফলে তা উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। অনুমান করা হচ্ছে, ১,০০০ পাউন্ডেরও বেশি তেজস্ক্রিয় পদার্থ সেখান থেকে সরাতে হবে। তবে এই অভিযান সাধারণ কোনও হামলা নয়। বরং শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে স্থলভিত্তিক অভিযান চালাতে হবে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এক প্রাক্তন বিশেষ বাহিনীর সদস্য, যিনি এই ধরনের অভিযানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, জানিয়েছেন, “এই প্রক্রিয়া ধীর, অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে।”
অন্য এক প্রাক্তন প্রতিরক্ষা আধিকারিক এই অভিযানের জটিলতা বোঝাতে বলেন, “এটা যেন শুধু একটা গাড়ি কেনা নয়, পুরো অ্যাসেম্বলি লাইনটাই কিনে নেওয়ার মতো।”
IAEA-ই কি বেশি উপযুক্ত?
এই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জোসেফ ভোটেল মনে করছেন, সামরিকভাবে এই অভিযান সম্ভব হলেও সবচেয়ে উপযুক্ত হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (IAEA)-র মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করা, বিশেষ করে যদি যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তাঁর মতে, ইরানের মতো দেশে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে “অসংখ্য ঝুঁকি” জড়িয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু পশ্চিম এশিয়ায় নয়, গোটা বিশ্বের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।