বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে ঘিরে এই সতর্কবার্তা শুধু একটি কূটনৈতিক মন্তব্য নয়, এটি সম্ভাব্য এক বড় আঞ্চলিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকেও সামনে নিয়ে আসছে।

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের স্যাটেলাইট ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2026 20:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রকে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা না করার জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কড়া সতর্কবার্তা দিল রাশিয়া (Iran Bushehr Nuclear Plant attack Risk)।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম (Rosatom)-এর প্রধান অ্যালেক্সেই লিখাচেভ বৃহস্পতিবার জানান, পারমাণবিক কেন্দ্রে কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সংঘাতে জড়িত কোনও দেশই তার বিকিরণ থেকে রেহাই পাবে না (Radiation Threat Middle East)।
তাঁর কথায়, “গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটলে বিকিরণের প্রভাব থেকে কোনও পক্ষই বাঁচতে পারবে না।”
প্রসঙ্গত, ইরানের বুশেহর শহরের পারমাণবিক কেন্দ্রটি রাশিয়ারই বানানো।
তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহে একটি হামলায় কেন্দ্রের মেট্রোলজি পরিষেবা ভবনের কাছে আঘাত লাগে, যা চালু রিঅ্যাক্টরের খুব কাছেই। যদিও এতে কোনও প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এই ঘটনার পর বুশেহর থেকে কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে থাকা প্রায় ৪৮০ কর্মীর অধিকাংশকেই সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে, কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী রেখে কেন্দ্র চালু রাখা হবে বলে জানিয়েছেন লিখাচেভ।
এর আগেই রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই হামলার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর কথায়, “চালু রিঅ্যাক্টরের কয়েক মিটার দূরে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অগ্রহণযোগ্য।”
তাঁর সাফ কথা, এই কেন্দ্রে কর্মরত রুশ নাগরিকদের জীবন নিয়ে কোনও ঝুঁকি না নিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
লিখাচেভ জানান, বুশেহর কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৭২ টন বিভাজ্য পদার্থ (fissile material) এবং ২১০ টন ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে এখানে কোনও হামলা হলে তা ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব অন্তত আঞ্চলিক স্তরে পড়বে এবং আরব দুনিয়ার বহু দেশ তার প্রভাব অনুভব করবে।”
এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, রিঅ্যাক্টর থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূরের একটি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে মূল রিঅ্যাক্টরে কোনও আঘাত লাগেনি এবং কর্মীদেরও কোনও ক্ষতি হয়নি। রোসাটমের দাবি, কেন্দ্রের আশপাশে বিকিরণের মাত্রা এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, রোসাটমই ইরানের এই একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ১ গিগাওয়াট ইউনিট তৈরি করেছিল এবং বর্তমানে সেখানে আরও ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে।
এই প্রেক্ষিতে লিখাচেভ জোর দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের এখন দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে এই ধরনের ঝুঁকি আর না তৈরি হয়, চলতি ইউনিটের উপর সরাসরি হামলার সম্ভাবনাও যেন না থাকে।”
তিনি সংঘাতে জড়িত সমস্ত পক্ষকে আহ্বান জানান, বুশেহর অঞ্চলকে “নিরাপদ এলাকা” হিসেবে ঘোষণা করতে এবং এখানে কোনও ধরনের হামলার ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে।
লিখাচেভ আরও দাবি করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের কাছে বুশেহর কেন্দ্র এবং সেখানে নির্মীয়মাণ ইউনিটগুলির সঠিক ভৌগোলিক অবস্থানের তথ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রকে ঘিরে এই সতর্কবার্তা শুধু একটি কূটনৈতিক মন্তব্য নয়, এটি সম্ভাব্য এক বড় আঞ্চলিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাকেও সামনে নিয়ে আসছে।