মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তরকে যুদ্ধ শেষের শর্ত হিসেবে চাপ সৃষ্টি করতে পরামর্শদাতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। আলোচনার টেবিলে ইরান রাজি না হলে শক্তি প্রয়োগ করে এই উপাদান দখলের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 30 March 2026 11:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমী এশিয়ার উত্তেজনা (Middle East War) যখন কমানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, সেই সময়েই ইরানে স্থল অভিযান (US Army) চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। লক্ষ্য একটাই - তেহরানের হাতে থাকা প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম (Iran Uranium) নিজেদের দখলে নেওয়া, যা থেকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তরকে যুদ্ধ শেষের শর্ত হিসেবে চাপ সৃষ্টি করতে পরামর্শদাতাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। আলোচনার টেবিলে ইরান রাজি না হলে শক্তি প্রয়োগ করে এই উপাদান দখলের কথাও বিবেচনায় রয়েছে। যদিও একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এই সংঘাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক। তবে এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার পেছনে ট্রাম্পের প্রধান যুক্তি - ইরানকে কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে কতদূর যেতে প্রস্তুত তিনি, তা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন হাজারের বেশি সেনা, যার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার নৌসেনা, আরব দুনিয়ায় পৌঁছে গিয়েছে। রবিবার রাতে ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে আমেরিকার দাবি মানতেই হবে, না হলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
গত বছরের জুনে মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলার আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম ছিল। যা সহজেই ৯০ শতাংশ অস্ত্রের মানের ইউরেনিয়ামে রূপান্তর করা সম্ভব। হামলার পর দাবি করা হয়েছিল, ইরানের পরমাণু প্রকল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এই উপাদানের বড় অংশ এখনও ইসফাহান ও নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে সুরক্ষিত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইউরেনিয়াম দখল করতে গেলে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাতে হবে। এতে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি প্রবল, পাশাপাশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অভিযানে প্রথমে ওই এলাকাগুলি ঘিরে সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে হবে, তারপর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করে উপাদান খুঁজে বের করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ইউরেনিয়াম বিশেষ সিলিন্ডারে রাখা রয়েছে, যেগুলি সরাতে বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও ট্রাম্প পরিষ্কার করেছেন, তিনি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চান না। কারণ সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে তাঁর দলের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট - কেউ কড়া পদক্ষেপের পক্ষে, আবার কেউ আরও সতর্কমূলক অবস্থান নিতে চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে মার্কিন কৌশল কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।