ইরান–আমেরিকা সংঘাত থামাতে বড় অগ্রগতির দাবি ট্রাম্পের। ১৫ দফার বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে তেহরান! পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 30 March 2026 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান–আমেরিকা (Iran-US) সংঘাত থামাতে বড় অগ্রগতি! দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর কথায়, ওয়াশিংটনের (Washington) দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের (15-point proposal) “বেশিরভাগটাই” নাকি মেনে নিয়েছে তেহরান (Tehran)। পাকিস্তানের (Pakistan) মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনায় (indirect negotiations) এই কাঠামো পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বেসরকারি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আমাদের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিয়েছে। মানবে না কেন?” পাশাপাশি ইঙ্গিত দেন, আলোচনা এগোলে আরও “এক-দুটো বিষয়” (additional demands) যুক্ত হতে পারে। সরাসরি (direct) ও পরোক্ষ— দু’ধরনের আলোচনাই হয়েছে বলে জানা যায় এবং খুব ভাল বৈঠক (very good meetings) হয়েছে, তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি মিলেছে।
চমকপ্রদ দাবি ট্রাম্পের, ইরান নাকি প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার দেখাতে বিপুল পরিমাণ তেল (oil) সরবরাহ করেছে। “ওরা আমাদের ১০টি বিশাল জাহাজভর্তি তেল দিয়েছে,” বলেন তিনি। আরও জানান, সোমবার (Monday) থেকে আরও ২০টি চালান (shipments) পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান, “ওরা যে সিরিয়াস, তা প্রমাণ করতেই।”
তবে এই ১৫ দফা প্রস্তাবের পূর্ণ নথি (full document) এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। একাধিক রিপোর্ট বলছে, তিনটি বড় দাবির উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা বিষয়। প্রথমত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি (nuclear programme) সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা— ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (uranium enrichment) বন্ধ, মজুত হস্তান্তর, নাতাঞ্জ (Natanz), ফোর্ডো (Fordow), ইসফাহানের (Isfahan) মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বন্ধ এবং পূর্ণ আন্তর্জাতিক নজরদারি (international inspections) চালু করা।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) ‘প্রক্সি মডেল’ (proxy model) ত্যাগ করতে হবে ইরানকে অর্থাৎ হিজবোল্লা (Hezbollah) বা হুথিদের (Houthis) মতো গোষ্ঠীকে আর অর্থ বা অস্ত্র সাহায্য করা যাবে না।
তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খোলা রাখতে হবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের (global shipping) জন্য এবং যুদ্ধবিরতি (ceasefire) কার্যকর করে আলোচনার পথ তৈরি করতে হবে।
এর বিনিময়ে ইরান কী পাবে?
সূত্রের খবর, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল (sanctions relief), তত্ত্বাবধানে অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির (civilian nuclear programme) অনুমতি এবং ‘স্ন্যাপব্যাক’ (snapback sanctions) ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে আমেরিকা।
তবে এই প্রস্তাব নতুন নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। আগের ব্যর্থ আলোচনার (failed negotiations) পুনরাবৃত্তিই যেন নতুন করে সামনে এসেছে। এখন দেখার, এই প্রস্তাব বাস্তবে শান্তির পথ দেখাতে পারে কি না।