গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflict) নিয়ে মোদীর কাছে ফোন আসে ট্রাম্পের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল তাঁদের প্রথম আলোচনা।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 March 2026 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সাম্প্রতিক ফোনালাপে যুক্ত ছিলেন ইলন মাস্ক (Elon Musk), এই 'বিতর্কিত' দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করল ভারত। শনিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, গত ২৪ মার্চ যে ফোনালাপ হয়েছিল, সেখানে কেবলই দুই রাষ্ট্রনেতা মোদী এবং ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call) ছিলেন। কোনও তৃতীয় ব্যক্তি, বিশেষ করে ইলন মাস্ক, যোগ দেননি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তা ভুল বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র।
গত মঙ্গলবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Conflict) নিয়ে মোদীর কাছে ফোন আসে ট্রাম্পের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল তাঁদের প্রথম আলোচনা। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, এই কথোপকথনে হরমুজ প্রণালি খোলা এবং নিরাপদ রাখার গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় হয়। ভারত আগেই জানিয়েছে, জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাই এখন অগ্রাধিকার।
এরপরই নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প-মোদীর সেই কথোপকথনের অংশ ছিলেন ইলন মাস্কও। যদিও কেন তিনি ফোনে ছিলেন বা তিনি কোনও কথা বলেছেন কি না, তা জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার পর থেকে মাস্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ খুব কম। ফলে হঠাৎ করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মাস্কের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
নরেন্দ্র মোদীও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, 'ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, শান্তি ফেরানোর চেষ্টা এবং হরমুজ প্রণালির (Hormuz Pronali) নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ইরান এই সপ্তাহেই আলোচনায় বসতে পারে বলে তাঁদের আশা। ওয়াশিংটন ইরানের কাছে ১৫ দফার যে শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তার উত্তরের অপেক্ষা করছে তারা।
কিন্তু এই সময়েই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ও দু'টি স্টিল প্ল্যান্টে হামলা নিয়ে তেহরানে উদ্বেগ ছড়িয়েছে (Iran War)। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশাল কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য, নয়তো ‘পারমাণবিক শক্তি’-তে বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি রয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড আবার হুমকি দিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিল্প কারখানা ও মার্কিন ঘাঁটিগুলি তাদের নিশানা হতে পারে। ইতিমধ্যেই দুবাই বিমানবন্দর, বাহরিনের একাধিক এনার্জি প্ল্যান্টে আঘাত করা হয়েছে।
সমগ্র ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বাড়ছে, আর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।