মন্তব্যের প্রেক্ষাপট মঙ্গলবারের ফোনালাপ। প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে। উল্লেখযোগ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রথমবার কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 27 March 2026 11:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Crisis) মাঝেই ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক (US India Crisis) নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মন্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ খুব ভাল, তাঁরা 'কাজ করে দেখান' - যা অন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় না। শুক্রবার ভারতে মার্কিন দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। তিনি ও মোদী - তাঁরা কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে সক্ষম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট মঙ্গলবারের ফোনালাপ। প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি (West Asia Crisis) নিয়েই আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে। উল্লেখযোগ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এই প্রথমবার কথা বলেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেন, ভারত বরাবরই উত্তেজনা কমানোর পক্ষে। তিনি জোর দেন, দ্রুত সংঘাত কমিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা জরুরি। একইসঙ্গে, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ - কারণ এই পথই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহণ রুট। এই বিষয়ে দুই দেশই নিয়মিত যোগাযোগ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মূল লক্ষ্য - স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বর্তমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে। তার জেরে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা। তবে ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। সূত্রের দাবি, ইরান ভারত-সহ কয়েকটি দেশকে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত না হয়।

ইতিমধ্যে ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে শুক্রবার সকালে ডলারের তুলনায় ৯৪-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারতীয় টাকার দর। কিছুদিন আগে ৯৩.১৫ হয়েছিল, আর শুক্রবার সেই সংখ্যাই পৌঁছেছে ৯৪.১৬-এ। একই সময়ে সেনসেক্স ১০টা ১৫ নাগাদ হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়।
বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। সকাল ১০টা ২০ নাগাদ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উবে যায়। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মোট বাজারমূল্য কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪২৪ লক্ষ কোটি টাকায়, যা আগের সেশনের তুলনায় অনেকটাই কম।
সব মিলিয়ে, এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারত সরাসরি সংঘাতে না জড়ালেও, কূটনৈতিক স্তরে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে শান্তি ফেরানোর পথে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।