এই ধাক্কার মূল কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে মোট তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর, সেখানে তেলের দাম বাড়লেই আমদানি খরচ, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনীতির সামগ্রিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের শেষে ফের বড় ধাক্কা ভারতীয় অর্থনীতিতে (Indian Economy)। একদিকে টাকার পতন (Rupee Hits All Time Low), অন্যদিকে শেয়ার বাজারে ধস (Share Market Today) - দু’টি প্রবণতাই যেন একে অপরকে আরও চাপে ফেলছে।
শুক্রবার সকালে ডলারের তুলনায় ৯৪-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারতীয় টাকার দর। কিছুদিন আগে ৯৩.১৫ হয়েছিল, আর শুক্রবার সেই সংখ্যাই পৌঁছেছে ৯৪.১৬-এ। একই সময়ে সেনসেক্স ১০টা ১৫ নাগাদ হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়।
এদিন বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। সকাল ১০টা ২০ নাগাদ বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উবে যায়। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মোট বাজারমূল্য কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪২৪ লক্ষ কোটি টাকায়, যা আগের সেশনের তুলনায় অনেকটাই কম।
এই ধাক্কার মূল কারণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। ভারতের মতো দেশে, যেখানে মোট তেলের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর, সেখানে তেলের দাম বাড়লেই আমদানি খরচ, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনীতির সামগ্রিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুদ্রাবাজারে। তেলের দাম বাড়ায় আমদানি মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের দিকেই ঝুঁকছেন। ফলে একদিকে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে টাকার ওপর চাপ বাড়ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতের পর থেকেই টাকার মান প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমেছে বলে জানা যাচ্ছে।
শুধু মুদ্রাবাজারই নয়, একই কারণে চাপে পড়েছে শেয়ার বাজারও। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। দুর্বল টাকা আবার ডলারের নিরিখে ভারতীয় সম্পদের আকর্ষণ কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে বিক্রির চাপ আরও বাড়ছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মাঝে মাঝে ডলার সরবরাহ করে অস্থিরতা কমাচ্ছে, কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট মান রক্ষা করছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ক্রুড তেলের দাম একইভাবে বাড়তে থাকে এবং বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তাহলে রুপি ৯৫-৯৬-এর দরে পৌঁছতে পারে।