ট্রাম্প বলেন, ইরান সৌজন্যতা দেখিয়ে পরে আরও ২টি জাহাজ অর্থাৎ মোট ১০টি জাহাজ পাঠায়। তিনি এই ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত হিসেবে দেখান যে তারা 'সঠিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ডিল করছে' এবং এটি 'গোপনে সাড়া কূটনৈতিক আলোচনার অংশ'।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 26 March 2026 22:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা (West Asia Conflicts) অব্যাহত! এরমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) জানালেন, ইরান হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে দশটি তেলবাহী জাহাজ (Oil Tanker) পাঠিয়েছে। তিনি এটিকে ‘সদিচ্ছার’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জাহাজগুলিতে পাকিস্তানের পতাকা ছিল, যা প্রমাণ করে পাক-মধ্যস্ততার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে, একথাও মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউসে (White House) অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ হচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের (Tehran) মধ্যে অপ্রকাশিত ও গোপনে করা আলোচনার ফলাফল। শুরুতে ইরান ৮টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) পার করতে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি খবর দেখে তখন বুঝলাম ৮টি বড় জাহাজ হরমুজ দিয়ে যাচ্ছে। সেগুলিতে সম্পূর্ণভাবে তেল ভর্তি ছিল।”
পরবর্তীতে, ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান সৌজন্যতা দেখিয়ে আরও ২টি জাহাজ পাঠায়, যার ফলে তেলের জাহাজের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১০। তিনি এই ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত হিসেবে দেখান যে তারা 'সঠিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ডিল করছে' এবং এটি 'গোপনে সাড়া কূটনৈতিক আলোচনার অংশ'।
তবে একই দিনে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রতি প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে 'একতরফা' এবং 'অন্যায়' হিসেবে উল্লেখ করেছে। অভিযোগ, প্রস্তাবটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইযরায়েলের স্বার্থে তৈরি, এটি ইরানের নিরাপত্তার অধিকার উপেক্ষা করেছে। একটি ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে বুধবার রাতে তেহরানে পৌঁছয়, কিন্তু এটি সংঘাত থামানোর প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করেনি।
ইরানের বক্তব্য, প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে তারা নিজেদের রক্ষার ক্ষমতা ত্যাগ করবে, বিনিময়ে কিছু অস্পষ্ট শর্তে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় ইরান প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে এই তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচল কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। ট্রাম্প এটিকে ইরানের সদিচ্ছা হিসেবে দেখলেও, ইরান স্পষ্ট করেছে যে যুদ্ধবিরতি বা একতরফা সমাধান তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখনও কূটনৈতিক চাপে এবং জটিল পরিস্থিতিতে রয়েছে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ, কূটনৈতিক আলোচনার গতিপ্রকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ককে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।