এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কারণ, অতীতেও ইরান প্রসঙ্গে একাধিকবার বিস্ময়কর দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা পরে তেহরান অস্বীকার করেছে। এবারও তাঁর বক্তব্যে একই ধরনের বিতর্কের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 March 2026 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান সংঘাতের আবহে (US Iran Conflict) ফের বিতর্কের ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নাকি তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদ গ্রহণের প্রস্তাব (Iran Supreme Leader Post) দিয়েছিল! যদিও সেই প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান ট্রাম্প।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কারণ, অতীতেও ইরান প্রসঙ্গে একাধিকবার বিস্ময়কর দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা পরে তেহরান অস্বীকার করেছে। এবারও তাঁর বক্তব্যে একই ধরনের বিতর্কের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কোনও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছে তাঁর কখনও ছিল না, বিশেষ করে ইরানের মতো দেশের ক্ষেত্রে। তাঁর দাবি, ইরানের তরফে নাকি তাঁকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি ওই পদ গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
ইরান প্রসঙ্গে আরও একাধিক দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জেরে ইরানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক পদ এখন কার্যত ফাঁকা। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই নতুন নেতৃত্বে এসেছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। যদিও তিনি জনসমক্ষে এখনও দেখা দেননি, এমন কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কিছু সূত্রের খবর, হামলায় তিনি আহত হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
চলতি সংঘর্ষ নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। ট্রাম্পের দাবি, আরব দুনিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি জানান, গোপনে আলোচনাও এগোচ্ছে এবং ইরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছতে চাইছে। তবে প্রকাশ্যে ইরান এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। বরং আমেরিকার শর্ত মানতে তারা অনীহা দেখিয়েছে।
তেহরানের পাঁচ শর্ত - প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সমস্ত সামরিক আক্রমণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে, তৃতীয়ত, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, চতুর্থত, গোটা অঞ্চলে চলা সংঘর্ষের সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং পঞ্চমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে হবে অন্য পক্ষকে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জল্পনা বাড়িয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি কতটা তাঁর দাবির সঙ্গে মেলে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কূটনৈতিক মহলে।