ইরানের বক্তব্য, মার্কিন প্রস্তাব বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তা একপাক্ষিক। অতীতে একাধিকবার আলোচনার নামে প্রতারণার অভিযোগও তুলেছে তেহরান। তাদের দাবি, আগের দুই দফা আলোচনায় কোনও সদিচ্ছা দেখায়নি ওয়াশিংটন, বরং পরবর্তীতে সামরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেইনি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিল ইরান (US Iran Conflict)। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, নিজেদের শর্ত পূরণ না হলে কোনওভাবেই যুদ্ধ থামানো হবে না (Iran Rejects USA Proposal)। এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান নিজের সময় ও নিজের শর্তেই যুদ্ধের ইতি টানবে।
ইরানের বক্তব্য, মার্কিন প্রস্তাব বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তা একপাক্ষিক। অতীতে একাধিকবার আলোচনার নামে প্রতারণার অভিযোগও তুলেছে তেহরান। তাদের দাবি, আগের দুই দফা আলোচনায় কোনও সদিচ্ছা দেখায়নি ওয়াশিংটন, বরং পরবর্তীতে সামরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুন প্রস্তাবেও সাড়া দেয়নি ইরান।
তেহরানের পাঁচ শর্ত
প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সমস্ত সামরিক আক্রমণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে
দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে
তৃতীয়ত, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
চতুর্থত, গোটা অঞ্চলে চলা সংঘর্ষের সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।
পঞ্চমত, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দিতে হবে অন্য পক্ষকে
এই শর্তগুলির পাশাপাশি জেনেভায় আগের আলোচনায় যে বিষয়গুলি তোলা হয়েছিল, সেগুলিও বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং একাধিক শীর্ষ আধিকারিক নিহত হন। তার পর থেকেই সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নেয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা নির্ধারণ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার মতো বিষয় ছিল বলে জানা গিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির সূত্রে আরও জানা যায়, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন কমানোর কথাও উল্লেখ ছিল প্রস্তাবে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। ইরান আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীতেও হতাহতের খবর মিলেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, আর তারই মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।