সংঘাতের মধ্যেও ভারত-সহ বন্ধু দেশের জাহাজ চলাচলে হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান। মার্কিন ও ইজরায়েলের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বাড়ছে উদ্বেগ।

ভারতের জন্য হরমুজ খুলল ইরান
শেষ আপডেট: 26 March 2026 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যেই বড় ঘোষণা ইরানের। হরমুজ দিয়ে ভারত-সহ ‘বন্ধু দেশে’র জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল তেহরান। কিন্তু মার্কিন-ইজরায়েলের জন্য বন্ধ থাকবে আপাতত।
বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, সংঘাতের আবহেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। ভারত (India), রাশিয়া (Russia), চিন (China), পাকিস্তান (Pakistan) ও ইরাকের (Iraq) মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলির জাহাজ চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলও (Consulate General of Iran in Mumbai) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের পোস্টে বলা হয়, এই দেশগুলির জাহাজ নিরাপদে প্রণালী পারাপার করতে পারবে। কোনও সমস্যা হবে না।
সব দেশের জন্য এই ছাড় নেই। আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States), ইজরায়েল (Israel) এবং সংঘাতে জড়িত কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে এই প্রণালী ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (Antonio Guterres) ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন প্রণালী বন্ধ থাকলে তেল, গ্যাস (Oil and Gas) এবং সার (Fertilizer) সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা বিশ্বজুড়ে কৃষি মরশুমের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘ (United Nations) যুদ্ধের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে বলে আশ্বাস গেন গুতেরেজ।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। সৌদি আরব (Saudi Arabia), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (United Arab Emirates), কাতার (Qatar), কুয়েত (Kuwait), ইরাক (Iraq), বাহরিন (Bahrain) এবং ইরান (Iran)-সহ একাধিক দেশ এই পথ দিয়ে তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রফতানি করে।
এই পথের উপর নির্ভরশীল বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন, জাপান (Japan) ও দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea)। মোট পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় ৬৯ শতাংশই যায় এই দেশগুলিতে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫৪ শতাংশ এলএনজি এই প্রণালী দিয়েই আমদানি হয়। ফলে সাময়িক অবরোধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ব্যাহত হয়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলও।