রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল (Russian crude oil import India) কেনা হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের টান এবং চাহিদা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাশিয়ার থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত
শেষ আপডেট: 25 March 2026 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী মাসের জন্য রাশিয়ার থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত (India Russian oil purchase), এমনই দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট। আরব দুনিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা (Hormuz disruption) তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে (global crude supply at stake) চাপ বাড়ছে। তার মধ্যেই কিছু স্বস্তি দেশের অন্দরে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ চেইনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল (Russian crude oil import India) কেনা হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের টান এবং চাহিদা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংখ্যার নিরিখে এই কেনাকাটা চলতি মাসের কাছাকাছি হলেও, ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি - এমনটাই বলছে তথ্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে এই অতিরিক্ত কেনাকাটাই এখন ভরসা ভারতের, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
রিপোর্টে উল্লেখ, মার্কিন প্রশাসনের একটি বিশেষ ছাড়ের ফলে এই কেনাকাটা সম্ভব হয়েছে। ১২ মার্চের আগে সমুদ্রে থাকা জাহাজের রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে এই অনুমতি দেওয়া হয়, পরে সেটির পরিধি আরও বাড়ানো হয়। এই ছাড়ের জেরে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, বিশেষ করে যখন হরমুজ প্রণালী কার্যত আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়েছে।
মার্কিন চাপের কারণেই গত ডিসেম্বর থেকে কয়েক মাস রুশ তেল কেনা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল ভারত। সেই সময়ে ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং হিন্দুস্তান মিত্তল এনার্জি লিমিটেড-এর মতো সংস্থাগুলি মূলত সৌদি আরব ও ইরাক থেকে তেল আমদানির দিকে ঝুঁকেছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি।
শুধু রাশিয়াই নয়, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য আনতেও উদ্যোগী ভারত। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একক কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চলছে। সম্প্রতি রুশ তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ‘MT Aqua Titan’ ২২ মার্চ ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে এবং ম্যাঙ্গালুরুর কাছে আরব সাগরে নোঙর করে রয়েছে।
একই সময়ে টেক্সাস থেকে এলপিজি বোঝাই একটি কার্গো জাহাজও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের কোনও বন্দরে জট তৈরি হয়নি এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ ও ৬১১ জন নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ১৪ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু চার্জ মকুব করেছে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘জাগ লাডকি’ নামের একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার সফলভাবে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের এলপিজি বাহক জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকারই প্রমাণ।