পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে ভারতকে সহায়তা করতে প্রস্তুত, এমনটাই বার্তা দিল রাশিয়া।

শেষ আপডেট: 3 March 2026 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার (West Asia tensions) জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন (Gulf crisis oil supply) ঘটলে ভারতকে সহায়তা করতে প্রস্তুত (Russia energy support India), এমনটাই বার্তা দিল রাশিয়া। রয়টার্স জানিয়েছে (Reuters report), এক রুশ সূত্র বলছে, বৈশ্বিক তেল প্রবাহে সমস্যা তৈরি হলে মস্কো নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াবে।
এই প্রস্তাব এমন সময়ে ভারতের কাছে এল, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ চরমে (Strait of Hormuz disruption impact on India)। বিশ্ব তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর ইরানের পাল্টা সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কতটা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
উপসাগরীয় এই সংকীর্ণ জলপথ, হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz), বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান চোকপয়েন্ট। ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি আমদানির প্রায় অর্ধেকই এই রুট দিয়ে আসে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর থেকে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। তেহরানের তরফে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বীমা সংস্থাগুলির কভার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও ট্যাঙ্কার চলাচলে প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি মজুত কত?
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আপাতত স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে দেশের কাছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, দেশে বর্তমানে এমন মজুত রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অন্য এক হিসেব অনুযায়ী, মোট ৫০ দিনের জ্বালানি সঞ্চয় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং আরও ২৫ দিনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য অন্তর্ভুক্ত।
এই মজুত দেশের পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্বল্পমেয়াদে সুরক্ষা বলয় তৈরি করছে।
বিকল্প উৎসের খোঁজে ভারত
তবে পরিস্থিতি যে অস্থির, তা মানছেন কেন্দ্রীয় কর্তারা। আরব দুনিয়ায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিকল্প দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি আমদানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সহায়তার প্রস্তাব কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। ফলে উপসাগরীয় রুটে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে মস্কোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাজারে উদ্বেগ, নজরে দিল্লি
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব শুধু ভারতের উপর নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
এই মুহূর্তে দিল্লির কৌশল স্পষ্ট - একদিকে পর্যাপ্ত মজুতের উপর ভরসা, অন্যদিকে বিকল্প সরবরাহ লাইনের খোঁজ, আর প্রয়োজনে রাশিয়ার সহায়তা।
পরিস্থিতির উপর নজর রেখে কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেই সূত্রের খবর।