উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ভারতের মোট আমদানিকৃত অশোধিত তেলের ৬০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী বাদে অন্য বিকল্প রুট দিয়ে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের ভাঁড়ারে টান পড়ার ভয় আপাতত নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 March 2026 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের (Iran US War) আবহে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের (Crude Oil) হাহাকারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই চরম উত্তেজনার মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অভয়বাণী শোনাল সরকারি সূত্র। উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ভারতের মোট আমদানিকৃত অশোধিত তেলের ৬০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী বাদে অন্য বিকল্প রুট দিয়ে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের ভাঁড়ারে টান পড়ার ভয় আপাতত নেই।
নজরদারিতে কেন্দ্র, হাতে মজুত ভাণ্ডার
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। এই ডামাডোলের সুযোগে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এই পথ দিয়ে আসা জাহাজগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সূত্র এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে যে ভারত যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে ভারতের কাছে অন্তত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের অশোধিত তেলের মজুত ভাণ্ডার বা ইনভেন্টরি রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোল এবং ডিজেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যও অন্তর্ভুক্ত। এলপিজি (LPG) এবং এলএনজি (LNG)-র জোগানের ক্ষেত্রেও ভারত এই মুহূর্তে নিরাপদ।
বিকল্প পথের ভরসা
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্ব তেল পরিবহণের ধমনী। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে মাত্র ৪০ শতাংশ অশোধিত তেল এই সরু পথ দিয়ে আসে। বাকি ৬০ শতাংশ তেল আসে অন্যান্য রুট দিয়ে, যা বর্তমান সঙ্কটে ভারতের বড় রক্ষা কবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা
সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত জরুরি ভিত্তিতে রাশিয়া থেকে আরও বেশি পরিমাণে অশোধিত তেল আমদানির কথা ভাবছে। যদিও গত মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে রুশ তেল আমদানি না করার একটি অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আগের চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া থেকে তেল আমদানি জারি রেখেছে দিল্লি। এই বিষয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতিনিয়ত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক বা রণকৌশলগত রুটগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়াই হোক, আগাম সতর্কতা ও বিকল্প ব্যবস্থার দৌলতে ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এখনই কোনও বড়সড় সঙ্কটের কালো মেঘ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।