Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

হরমুজ বন্ধের পথে ইরান, বড় বিপদে পড়তে পারে ভারত, জ্বালানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আশঙ্কাই সত্যি হল। ইরানে মার্কিন হামলার (US attacks Iran) পর হরমুজ প্রণালী ( Hormuz strait) বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটল তেহরান।

হরমুজ বন্ধের পথে ইরান, বড় বিপদে পড়তে পারে ভারত, জ্বালানি বিপর্যয়ের আশঙ্কা

হরমুজ বন্ধের পথে ইরান

অন্বেষা বিশ্বাস।

শেষ আপডেট: 22 June 2025 21:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশঙ্কাই সত্যি হল। ইরানে মার্কিন হামলার (US attacks Iran) পর হরমুজ প্রণালী ( Hormuz strait) বন্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটল তেহরান। এ ব্যাপারে আনা প্রস্তাবে শনিবার সর্বসম্মতভাবে সায় দিয়েছে ইরানের সংসদ তথা পার্লামেন্ট। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে। হরমুজ প্রণালী আসলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইরান তা আটকে দিলে গোটা বিশ্ব তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।

হরমুজের (Strait of Hormuz) ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব


মাত্র ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর একটি। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এখান দিয়ে যায়। যার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার। শনিবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের সদস্য ও পার্লামেন্ট সদস্য এসমাইল কোসারি বলেছেন, "হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি প্রয়োজনে কার্যকর করা হবে।"

বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা


১৩ জুন ইরানের ইজরায়েলের হামলার (Israel Iran War) পর থেকেই তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এরপর আমেরিকা সরাসরি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent crude) দাম ইতিমধ্যেই ১০ শতাংশ বেড়ে ৭৭ ডলার ছুঁয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে এমন দামবৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা প্রমাণ করছে বাজার কতটা আতঙ্কে রয়েছে।

ভারতের উপর সম্ভাব্য প্রভাব


একদা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে ভারতের সঙ্গে শরিক ছিল ইরান। তা ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার ব্যাপারে নয়াদিল্লির বিদেশনীতি বরাবরই মধ্যপন্থী এবং তেল নির্ভরশীলতার কারণে হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতার পক্ষে ভারত। এই সংকট ভারতের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে—


তেলের দাম বাড়তে পারে। ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। এর একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে সরবরাহ ব্যাহত হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়বে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে ভারতীয় অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যেই ভারত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছে। কিন্তু হরমুজ বন্ধ হলে এই চাপ আরও বাড়বে, এবং দ্রুত বিকল্প উৎসের প্রয়োজন দেখা দেবে।

তাছাড়া কূটনৈতিক চাপে পড়তে পারে ভারত। আমেরিকা, ইরান, ইজরায়েল, সৌদি আরব—সব দেশের সঙ্গেই ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। হরমুজ ইস্যুতে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে অত্যন্ত কৌশলীভাবে, যাতে কোনও পক্ষ ক্ষুব্ধ না হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের বহু জাহাজ চলাচল করে। এ অঞ্চল যদি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়, তবে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যয় ও বিমা খরচ বহুগুণে বাড়তে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হল, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতীয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং রফতানি নির্ভরতা রয়েছে। পরিস্থিতি অস্থির হলে সেই প্রভাব পড়বে শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক আদানপ্রদানে।

১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী ঘিরে ‘ট্যাঙ্কার ওয়ার্স’ হয়েছিল। উভয় পক্ষ একে অপরের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। সেই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। সেই অভিযানের নাম ছিল অপারেশন আরনেস্ট উইল ( ‘Operation Earnest Will’)। এখন সেই ইতিহাসের ছায়া যেন ফিরে আসছে।

ইরান এখনও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, প্রয়োজনে যে কোনো সময় এই পথ বন্ধ করতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক মহল এখন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে—পরিস্থিতি কি কূটনীতির পথে সমাধান হবে, না আরও বড় সংঘাতের দিকে গড়াবে?
 


```