ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার (US attacks Iran) পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন যারপরনাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 22 June 2025 20:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার (US attacks Iran) পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন যারপরনাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কারণ, শুক্রবার মধ্যরাতে মার্কিন হামলার পর শনিবার সকালে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি টেলিভিশনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মার্কিন নাগরিক এখন তাদের টার্গেট।
এতেই থরহরি পড়ে গেছে। মার্কিন হামলা ও ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই ও দোহার মত রুটে ফ্লাইট বাতিল করতে শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ পশ্চিম এশিয়ার আকাশ পুরোপুরি এড়িয়ে তাদের বিমান চালাচ্ছে।
কোন কোন এয়ারলাইনেস ফ্লাইট বাতিল করল?
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স তাদের দুবাই ও দোহার উড়ান রবিবার বাতিল করেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স আগেই কাতার ও দুবাইয়ে ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। আর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, চলতি পরিস্থিতির উপর তারা নজর রাখছে, ভবিষ্যতের তাদের ফ্লাইটও প্রভাবিত হতে পারে।
কোন কোন আকাশসীমা এড়িয়ে যাচ্ছে বিমান?
ফ্লাইট রাডার (FlightRadar24) অনুযায়ী, বেশিরভাগ বিমান এখন ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইজরায়েলের আকাশ এড়িয়ে চলছে। তার পরিবর্তে—উত্তর দিক দিয়ে (কাস্পিয়ান সাগর হয়ে) বা দক্ষিণে মিশর ও সৌদি আরবের আকাশ দিয়ে ঘুরপথে যাত্রা করছে। এর ফলে সময় ও খরচ—দু’টিই বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাত্রীরাও। এর উপর ইরান হরমুজ প্রণালী (Hormuz strait) দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা দেওয়া শুরু করলে, কী যে হবে কেউ জানে না!
মার্কিন উড়ানের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি
সেফ এয়ারস্পেস (Safe Airspace) নামের একটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা সতর্ক করে বলেছে—ইরানে মার্কিন হামলার ফলে এখন মার্কিন উড়ানগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। যদিও এখনও কোনও অসামরিক বিমানের বিরুদ্ধে হুমকি আসেনি, তবুও ইরান অতীতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল—মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থে হামলা হতে পারে, সরাসরি বা হিজবুল্লার মতো প্রক্সি সংগঠনের মাধ্যমে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আকাশসীমার ঝুঁকি শুধু ইরান বা ইরাকে থেকে নেই, তা হয়তো এখন বাহরিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
উদ্ধার ও ইভাকুয়েশন ফ্লাইট
ইজরায়েলের অবস্থা এখন খুবই কঠিন। তাদের বিমান সংস্থাগুলি যেমন এল আল, আর্কিয়া, ইসরায়ার ও এয়ার হাইফা রেসকিউ ফ্লাইট চালাতে শুরু করেছে। প্রায় ৪০,০০০ ইজরায়েলি নাগরিক এবং হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক এখনও আটকে আছেন। অনেকে জর্ডন, মিশর কিংবা সাইপ্রাস হয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। জাপান ইতিমধ্যেই ১৬ জন নাগরিক সহ মোট ২১ জনকে ইরান থেকে আজারবাইজানে সরিয়ে এনেছে। নিউজিল্যান্ড একটি সামরিক হ্যারকিউলিস বিমান পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নাগরিকদের উদ্ধার করতে। পাশাপাশি বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলি শুধু নতুন রুট খোঁজায় ব্যস্ত নয়, একই সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েল-এর দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব ভাড়া ও পরিষেবার ওপর পড়বে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
ইরান-ইজরায়েল (Iran Israel war) সংঘাত এবং মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আবার পরিণত হয়েছে এক উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে। এর আঁচ লেগেছে অসামরিক বিমান চলাচলে, বিশেষ করে মার্কিন সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা ও খরচের ওপর। আগামী দিনে এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা জগতে আরও বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।