Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

Iran-Israel Conflicts: ইরান থেকে নিরাপদে ফিরলেন সহস্র ভারতীয়, এখনও চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ

একজন পড়ুয়া মিজবান জানান, “তেহরান থেকে পালিয়ে কোম, সেখান থেকে মাশহাদে গিয়েছিলাম। তারপরই দেশে ফেরার বিমান পেয়েছি। এখন নিরাপদে দেশে, এটা বড় স্বস্তি। কিন্তু আবার ফিরতে হলে অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হবে।”

Iran-Israel Conflicts: ইরান থেকে নিরাপদে ফিরলেন সহস্র ভারতীয়, এখনও চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ

প্রতীকী ছবি

শেষ আপডেট: 22 June 2025 12:59

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখে-মুখে আতঙ্ক, এক হাতে জাতীয় পতাকা। শনিবার রাতের বিমানে ইরান (Iran) থেকে দেশে ফিরলেন ২৫৬ জন ভারতীয় পড়ুয়া। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ (Iran-Israel Conflicts) শুরু হওয়ার পর থেকে দিন-রাত আতঙ্কে ছিলেন তাঁরা। কেউ বললেন, “রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ দেখেছি।” কেউ বললেন, “বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যেত প্রতিদিন।”

শ্রীনগরের জুবেইদার একমাত্র ছেলে তেহরানে (Tehran) মেডিক্যাল পড়ে। ছেলের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, হাতে ছেলের ছবি। বললেন, “সঙ্কটের সময় ছেলের সঙ্গে দু’একবারই কথা হয়েছিল। আমি যাতে ভয় না পাই তাই ও নিজেকে শক্ত করে রেখেছিল। কিন্তু ওর-ও আতঙ্কে দিন কেটেছে।”

একজন পড়ুয়া মিজবান জানান, “তেহরান থেকে পালিয়ে কোম, সেখান থেকে মাশহাদে গিয়েছিলাম। তারপরই দেশে ফেরার বিমান পেয়েছি। এখন নিরাপদে দেশে, এটা বড় স্বস্তি। কিন্তু আবার ফিরতে হলে অনেক ভাবনা-চিন্তা করতে হবে।”

ইরানে (Iran) আটকে থাকা ভারতীয়দের (Indian Students) দেশে ফেরাতে কেন্দ্র সরকার চালু করেছে ‘অপারেশন সিন্ধু’। এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ইরান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে ১০০০-র বেশি ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই কাশ্মীরের ছাত্রছাত্রী। এক ছাত্র জুনেইদ জানান, “আমার বোন মাঝেমধ্যে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করত। নেট বন্ধ ছিল, ঠিকমতো যোগাযোগই রাখা যাচ্ছিল না। বোনের কলেজের পাশেই বোমা পড়েছিল। খুব ভয় করছিল।”

তেহরানে পড়া আর এক ছাত্রী বলেন, “এক রাতেই তেহরান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সত্যিই মনে হয়েছিল, মৃত্যু আর বেশি দূরে নেই। কিন্তু ভারত সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের পাশে ছিল।”

যুদ্ধ শুরু হতেই প্রথমে পড়ুয়াদের সরানো হয় তেহরান থেকে ১৫০ কিমি দূরের কোম শহরে। সেখান থেকে তাঁরা যান মাশহাদে। তারপর সেখান থেকেই বিমানে ওঠেন দিল্লির উদ্দেশে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরান ভারতের জন্য আকাশপথ খুলে দেয়, যা ছিল এক বড় মানবিক সিদ্ধান্ত। তেহরানে ভারতের ডেপুটি চিফ অব মিশন মহম্মদ জাওয়াদ হোসেনি জানান, “নিজেদের সংকটের মধ্যেও ইরান ভারতীয়দের উদ্ধারকাজে সাহায্য করেছে। এটা অসাধারণ সদিচ্ছার প্রমাণ।”

এই উদ্ধারকাজে শুধুমাত্র পড়ুয়ারাই নয়, ইরানে থাকা তীর্থযাত্রীরাও দেশে ফিরেছেন। জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। যাঁরা পড়াশোনার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনেকেই জানাচ্ছেন, পড়া শেষ না করে দেশে ফেরা কষ্টের হলেও, জীবন নিয়ে ফিরতে পেরেছেন— সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এক অভিভাবক বললেন, “ছেলের স্বপ্ন ডাক্তারের, কিন্তু সেই স্বপ্ন যেন যুদ্ধের মধ্যে শেষ না হয়ে যায়। ফের যাবে কিনা, সময় বলবে।”


```