মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আমেরিকার মিসৌরি ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমানগুলি ৩৭ ঘণ্টা একটানা উড়ে, মাঝ আকাশে একাধিকবার জ্বালানি নিয়ে হামলা চালায়। এই অভিযানে ব্যবহার করা হয় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ নামের বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বোমা, যা ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
.jpg.webp)
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা থেকে সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 22 June 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার (Iran-Israel Conflict) মাঝেই এবার সরাসরি ময়দানে নামল আমেরিকা। রবিবার ভোররাতে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক ঘাঁটিতে বড়সড় হামলা চালানো হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ফোর্দো (Fordow), নাতানজ (Natanz) এবং ইসফাহান (Isfahan) কেন্দ্রগুলি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, আমেরিকার মিসৌরি ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমানগুলি ৩৭ ঘণ্টা একটানা উড়ে, মাঝ আকাশে একাধিকবার জ্বালানি নিয়ে হামলা চালায়। এই অভিযানে ব্যবহার করা হয় ‘বাঙ্কার বাস্টার’ নামের বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বোমা, যা ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
ফোর্দো (Fordow) ছিল ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পরমাণু ঘাঁটি। ৮০ মিটার গভীরে থাকা এই কেন্দ্র এতটাই মজবুতভাবে তৈরি যে, অতীতে ইজরায়েল বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে নাতানজে হামলা করতে পারলেও, ফোর্দোর গায়ে আঁচড় ফেলতে পারেনি। সেই ফোর্দোই এবার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া মাত্র তিন মিনিটের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, “ইরান এখনই যদি শান্তির পথে না হাঁটে, তবে ভবিষ্যতের হামলা হবে আরও ভয়ংকর। আজ রাতে যেটা করা হয়েছে, সেটা ছিল সবচেয়ে কঠিন লক্ষ্য।” তিনি আরও জানান, “আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পরমাণু শক্তি নষ্ট করা। এবং আমরা সেটা সফলভাবে করেছি। ইরানের প্রধান পরমাণু ঘাঁটিগুলি এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস।”
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ফোর্দোতে ছ’টি বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে এবং নাতানজ ও ইসফাহানে প্রায় ৩০টি টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপের পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অসাধারণ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ইতিহাস বদলে দেবে।”