রবিবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ ও ‘অসাধারণ নেতৃত্বের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন।

শেষ আপডেট: 22 June 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে আমেরিকার হামলার পর প্রকাশ্যে এল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া। রবিবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ ও ‘অসাধারণ নেতৃত্বের’ ভূয়সী প্রশংসা করেন। আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত ইতিহাস বদলে দেবে।’
ইরানের ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহানে মার্কিন বিমান হামলার পরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমার মত, ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি।’ আগে আসে শক্তি, তারপর আসে শান্তি। আজ রাতে ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা সেই শক্তি দেখিয়েছে।’
ইজরায়েল এর আগেই ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা শুরু করেছিল। এর জেরে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে প্রথমে ঘোষণা করেন মার্কিন বিমান হামলার কথা, পরে হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি দেশের উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ‘ইরানের মূল পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এখন ইরানের সামনে দু’টি পথ- শান্তি অথবা বিপর্যয়।’
এদিকে, নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমেরিকার যথাযথ শক্তি দিয়ে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত হেনে আপনি ইতিহাস বদলেছেন। অপারেশন রাইজিং লায়নে ইজরায়েল অসাধারণ কাজ করেছে, কিন্তু আজ রাতের হামলায় আমেরিকা যা করেছে, তা পৃথিবীর আর কোনও দেশ করতে পারত না।’
তিনি আরও বলেন, এ’ই পদক্ষেপ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শাসনব্যবস্থাকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র থেকে বিরত রেখেছেন।’
ইজরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশে আলাদা এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে।’
এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ফোর্ডো পারমাণবিক কেন্দ্রে ছ’টি বাঙ্কার-বাস্টার বোমা এবং নাতানজ ও ইসফাহানে ৩০টি টমাহক মিসাইল ছোড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই হামলা ছিল একটি বিস্ময়কর সামরিক সাফল্য। এখন ইরানকে এই যুদ্ধ শেষ করতে হবে।’
‘এখনই শান্তির সময়! আমাদের বীর যোদ্ধাদের অভিনন্দন। এমন কিছু বিশ্বে আর কেউ করতে পারত না’, বলেন ট্রাম্প।
আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইজরায়েল দাবি করেছে, ইরান ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১,০০০ ড্রোন ছুঁড়েছে, যাতে ইজরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
তবে আমেরিকার এই হামলায় চুপ থাকেনি ইরান। তারা জানিয়েছে এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এরপর সমস্ত আমেরিকাবাসী এখন ইরানের নিশানায়।