চারজন পুলিশ কর্মী সাফাই কর্মীর ছদ্মবেশে দু’সপ্তাহ অফিসে কাজ করে কর্মীদের আচরণ লক্ষ করেন। তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে দলনেতা হিসেবে থাকা কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা (Nashik TCS sexual harassment), ধর্ষণ, ভয় দেখানো এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ।
.jpg.webp)
টিসিএস বিতর্ক
শেষ আপডেট: 15 April 2026 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাসিকের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (TCS) অফিসে গোপনে চলছিল যৌন হেনস্থা, প্রতারণা এবং জোর করে ধর্মান্তরকরণ! সেই অভিযোগের জাল ভেঙে বেরিয়ে এসেছে একের পর এক ভয়াবহ তথ্য। একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীর দেওয়া 'গোপন খবর' পেয়েই শুরু হয় পুলিশি তদন্ত (TCS controversy), আর শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় বড়সড় বিতর্কে (TCS Nashik case)। ইতিমধ্যে ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে মোট সাতজন কর্মী, দায়ের হয়েছে ন'টি এফআইআর।
কীভাবে ফাঁস হল পুরো চক্র?
ফেব্রুয়ারিতে এক রাজনৈতিক দলের কর্মী অভিযোগ করেন, টিসিএস অফিসে এক হিন্দু মহিলা কর্মী হঠাৎ রমজানের রোজা রাখতে শুরু করেছেন এবং তাঁকে কর্মস্থলে ইসলাম ধর্মীয় নিয়ম মানতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। সেই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ শুরু করে একটি গোপন অভিযান।
চারজন পুলিশ কর্মী সাফাই কর্মীর ছদ্মবেশে দু’সপ্তাহ অফিসে কাজ করে কর্মীদের আচরণ লক্ষ করেন। তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে দলনেতা হিসেবে থাকা কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা (Nashik TCS sexual harassment), ধর্ষণ, ভয় দেখানো এবং জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ।
গ্রেফতার আরও চাঞ্চল্য বাড়ায়
পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করে দানিশ শেখকে। অভিযোগ, তিনি এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান এবং নিজের বিবাহিত পরিচয় গোপন করেন। এরপর ক্রমে সামনে আসে আরও অভিযোগ। অন্যদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে, আসিফ আনসারি, শাফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রেজা মেমন, তৌসিফ আত্তার ও আশ্বিন চানিয়ানি। এই মামলায় এইচআর ম্যানেজার নিদা খান পলাতক।
পুলিশ জানায়, ১৮-২৫ বছরের তরুণী কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, আপত্তিজনক আচরণে সায় না দিলে কাজের চাপ বাড়ানো হতো, ব্যক্তিগত মন্তব্য করা হত এবং ভয় দেখিয়ে ভিন্ন ধর্মের রীতি মানতে বাধ্য করা হত।
ধর্মান্তর চক্রে ‘বিদেশি সংযোগ’?
তদন্তকারীরা বলছেন, কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে মালয়েশিয়া-নিবাসী প্রচারক 'ইর্মান'-এর যোগ পাওয়া গেছে। তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বলে অভিযোগ।
কোম্পানি ও রাজনীতির তীব্র প্রতিক্রিয়া
টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান ঘটনাটিকে 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক' বলে উল্লেখ করেছেন। টিসিএস জানিয়েছে, তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা বান্ডি সঞ্জয় কুমার একে বলেছেন 'কর্পোরেট জিহাদ'। শিবসেনার প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী টিসিএসের প্রতিক্রিয়াকে বলেছেন 'উদাসীন ও হতাশাজনক'।
এখন কী?
মামলার তদন্তে গঠিত হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিদেশি ফান্ডিং আছে কি না তা জানতে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ- কর্মস্থলে নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ও কর্পোরেট সংস্কৃতির দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি অফিসের অভিযোগ নয়—বরং কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা এবং কর্পোরেট দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।